প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সাথে বৈরী সম্পর্ক তৈরির পক্ষপাতী না হলেও সীমান্তে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা করার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।তিনি অবিলম্বে এই ধরনের সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করার জন্য ভারতের প্রতি জোর দাবি জানান।
শনিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলে নদীগুলোতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় যে তীব্র লবণাক্ততার সমস্যা দেখা দিয়েছে, তা মোকাবিলায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ করা জরুরি। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে ভারতের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করা যাবে। তিনি স্পষ্ট করেন, কেবল পদ্মা বা তিস্তা নয়, বরং অভিন্ন সব নদীর পানির ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ।
ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবসকে বর্তমান সময়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আগামীতে গঙ্গা পানি চুক্তির নবায়নের ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখতে পুরো জাতিকে এক হতে হবে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে দল-মত ও রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে সবাইকে একক প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বর্তমান প্রশাসনের গত তিন মাসের কার্যক্রমের মূল্যায়ন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতাহীনতার এই সংক্ষিপ্ত সময়ে দেশের মৌলিক ও প্রধান সমস্যাগুলো সমাধানের আন্তরিক চেষ্টা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড বিতরণ এবং জলাশয় ও খাল খননের মতো জনমুখী উদ্যোগগুলো সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার করেছে।
তিনি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ যেকোনো ধরনের ধর্মান্ধতা ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে প্রত্যাখ্যান করে ব্যালটের মাধ্যমে বিএনপিকে জয়যুক্ত করেছে। এই গণরায় প্রমাণ করে যে, এ দেশের মানুষ কোনো ধরনের উগ্রবাদ বা সাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাস করে না।