সোমবার, 12 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

সালিশের রায় না মানায় একঘরে ২০ সদস্যের পরিবার

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সালিশের সিদ্ধান্ত না মানায় কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে একটি পরিবারের ওপর সামাজিক বয়কট ও আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বরের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ২০ দিন ধরে হিলচিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর বেলভিডা দক্ষিণ সাতুঢা গ্রামের মৃত ভেলু মিয়ার দুই ছেলে মো. হবি মিয়া ও মো. রফিক মিয়ার ২০ সদস্যের পরিবারটি একঘরে হয়ে আছে।

সালিশের রায় না মানায় একঘরে ২০ সদস্যের পরিবার

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সালিশের সিদ্ধান্ত না মানায় কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে একটি পরিবারের ওপর সামাজিক বয়কট ও আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বরের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ২০ দিন ধরে হিলচিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর বেলভিডা দক্ষিণ সাতুঢা গ্রামের মৃত ভেলু মিয়ার দুই ছেলে মো. হবি মিয়া ও মো. রফিক মিয়ার ২০ সদস্যের পরিবারটি একঘরে হয়ে আছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, পরিবারটিকে সামাজিকভাবে বর্জনের পাশাপাশি গ্রামের কেউ তাদের কাজের সুযোগ দিলে, আয়-রোজগারের ব্যবস্থা করলে কিংবা সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

হবি ও রফিক মিয়ার পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী সেলিম ও শাহিনের প্রায় দেড় শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সেলিম ও শাহিনের দাবি, তারা ওই জমি আগে টাকা দিয়ে কিনেছেন। তবে হবি ও রফিকের বক্তব্য, তারা জমিটি কখনো বিক্রি করেননি এবং এর বিনিময়ে কারও কাছ থেকে কোনো অর্থও নেননি।

বিরোধের সমাধানে স্থানীয় মাতব্বরদের উদ্যোগে সালিশ বসে। সেখানে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়, সেলিম ও শাহিন হবি ও রফিককে অতিরিক্ত দেড় লাখ টাকা দেবেন এবং বিনিময়ে তারা জমিটি ছেড়ে দেবেন। কিন্তু হবি ও রফিকের পরিবার সালিশের এ সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, সালিশের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করায় স্থানীয় মাতব্বর অধু মিয়া, আবিরাজ মিয়া, কুদ্দুস, মন্নান, রঙ্গু মিয়া এবং হিলচিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রিপন মিয়াসহ কয়েকজন ওই পরিবারকে একঘরে করার নির্দেশ দেন।

হবি মিয়ার একটি ধান ভাঙানোর রাইস মিল রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কেউ ওই মিলে ধান বা চাল ভাঙাতে গেলে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ কারণে বর্তমানে তাঁর মিলে কোনো গ্রাহক আসছেন না।

অন্যদিকে হবি মিয়ার ভাই রফিক মিয়া অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি বলেন, তাঁর রিকশায় কোনো যাত্রী উঠলে কিংবা কেউ তাঁকে চালক হিসেবে কাজে নিলে সংশ্লিষ্ট উভয় পক্ষকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে তাঁর আয়-রোজগার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ ছাড়া সালিশকারীদের নির্দেশে প্রতিবেশী দিলোয়ার হোসেন হবি মিয়ার পরিবারের জমিয়ে রাখা গরুর খড় ভেঙে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে দিলোয়ারের দাবি, ওই জায়গাটি তাঁর এবং সালিশকারীদের অনুমতি নিয়েই তিনি সেখানে থাকা খড় ভেঙেছেন।

জায়গাটির মালিকানা নিয়েও দুই পক্ষের ভিন্ন দাবি রয়েছে। হবি মিয়ার ভাষ্য, জায়গাটি সরকারি রেকর্ডে রাস্তা হিসেবে রয়েছে এবং সেটি তাঁর নিজস্ব জমির অংশ।

সালিশকারী ও হিলচিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি রিপন মিয়া পরিবারটিকে একঘরে করে রাখার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, একাধিকবার সালিশে বসার পরও পরিবারটি সিদ্ধান্ত মেনে না নেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে সেলিম ও শাহিনের বাড়িতে গিয়ে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

ঘটনার বিষয়ে হিলচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাজফারুল ইসলাম নাহিদ বলেন, তিনি আগে বিষয়টি জানতেন না। তবে ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাজিতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম শহিদুল্লাহ জানান, এ বিষয়ে থানায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ আসেনি। তবে ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।