শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ভোটের দিন ইন্টারনেট বন্ধ করলে আইনি ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন ইন্টারনেট সচল রাখার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কেউ ইন্টারনেট বন্ধ করার চেষ্টা করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

ভোটের দিন ইন্টারনেট বন্ধ করলে আইনি ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন ইন্টারনেট সচল রাখার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কেউ ইন্টারনেট বন্ধ করার চেষ্টা করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

রোববার দুপুরে নির্বাচন সংক্রান্ত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচনের সময় ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা হল, এটা খোলা থাকবে। ইন্টারনেট যদি কেউ বন্ধ করে, আমরা তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসব।’

নির্বাচন ঘিরে গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়ানো ঠেকাতে তথ্যপ্রবাহ সচল রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রগুলো নিরাপদ থাকবে এবং ভোটারদের কোনো ধরনের অসুবিধা হবে না।’

চট্টগ্রামের পাহাড়, সমতল ও উপকূলীয় ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় আসন্ন নির্বাচনে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী মাঠে থাকবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রামের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যার যার অবস্থান থেকে প্রস্তুতি নিয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী, যেসব এলাকায় যত জনবল প্রয়োজন, সেভাবে সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, ‘নির্বাচন ঘিরে চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে প্রস্তুতি রয়েছে তা সন্তোষজনক। পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে পারলে নির্বাচন সুষ্ঠু, উৎসবমুখর ও নিরপেক্ষ হবে।’

নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। নির্বাচনটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডেই হবে।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। সেখানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা আমাদের জাতীয় অঙ্গীকার। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে যেকোনো মূল্যে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে।’

সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং আনসারসহ সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সাধারণ ভোটাররা যেন নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসতে পারেন, সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্ব। নির্বাচনে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা পক্ষপাতিত্ব সহ্য করা হবে না।’

মতবিনিময় সভায় বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ, রেঞ্জ ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।