মাদারীপুর সদর উপজেলার দুর্গাবরদী গ্রামে ভুট্টা ক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় লাশের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ বা আলামত না থাকলেও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির নিপুণ ব্যবহারের মাধ্যমে পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান পরিকল্পনাকারীকে গ্রেফতার এবং নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে মাদারীপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। পুলিশ জানায়, নিহত ব্যক্তির নাম সিরাজ শিকদার (৫৬), যিনি সদর থানার দক্ষিণ বিরাঙ্গল গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি মো. বিলাল হোসেন সরদারকে (৪০) গ্রেফতার করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি দুর্গাবরদী গ্রামের একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে মুখমণ্ডল বিকৃত অবস্থায় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। লাশের পরিচয় না মেলায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মাদারীপুর সদর থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তের এক পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজন বিলাল হোসেনকে আটক করা হলে তিনি পুলিশের কাছে সিরাজ শিকদারকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই হত্যাকাণ্ডে বিলালের সঙ্গে আরও তিন সহযোগী অংশ নিয়েছিল। তাদের আইনের আওতায় আনতে বর্তমানে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যদিও হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো স্পষ্ট নয়, তবে বিষয়টি নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ প্রশাসন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, মামলাটি সম্পূর্ণ 'ক্লুলেস' হওয়া সত্ত্বেও অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। দ্রুত এই রহস্য উন্মোচনের ফলে পুলিশের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।