লিবিয়া উপকূল সংলগ্ন ভূমধ্যসাগরে ১০৫ জন যাত্রী নিয়ে একটি কাঠের নৌকা ডুবে যাওয়ার ফলে অন্তত ৭০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ হয়েছেন। গত রবিবার ইতালীয় দাতব্য সংস্থা মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যান (এমএসএইচ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিখোঁজদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে বলে জানা গেছে।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত শনিবার বিকেলে লিবিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ‘সার্চ অ্যান্ড রেস্কিউ’ জোনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী সেই নৌকাটি লিবিয়ার উপকূলীয় শহর তাজাউর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। সমুদ্রের তেলের খনি বৌরি অয়েল ফিল্ড থেকে প্রায় ১৪ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে নৌকাটি নিমজ্জিত হয়, যা লিবিয়া উপকূল থেকে ১২২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযানে এখন পর্যন্ত ৩৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিত উদ্ধারকৃত ব্যক্তি ও মরদেহগুলো ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় ল্যাম্পেদুসা দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলোকে আরও নিরাপদ এবং মানবিক অভিবাসন নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে এমএসএইচ।
এদিকে ল্যাম্পেদুসাভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনসা নিউজের প্রতিবেদনে কিছুটা ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। উদ্ধারকৃত ব্যক্তিদের বরাতে তারা জানিয়েছে, নৌকাটিতে প্রকৃতপক্ষে ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন। কোস্ট গার্ডের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পূর্বেই অন্তত ৮০ জন সমুদ্রে তলিয়ে গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান এই সংকট নিরসনে সমুদ্রপথে অবৈধ পারাপার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।