বুধবার, 21 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের আরেক তরুণের ‘অনাহারে’ মৃত্যু

ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারানো সুনামগঞ্জের ১২ তরুণের তালিকায় যুক্ত হলো ছাতক উপজেলার মহিবুর রহমানের নাম। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তার স্বজনরা। নিহতের শোক সইতে না পেরে তার মা বর্তমানে শয্যাশায়ী এবং ছোট ভাইকে গুরুতর অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের আরেক তরুণের ‘অনাহারে’ মৃত্যু
ছবিঃ সংগৃহীত

ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারানো সুনামগঞ্জের ১২ তরুণের তালিকায় যুক্ত হলো ছাতক উপজেলার মহিবুর রহমানের নাম। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তার স্বজনরা। নিহতের শোক সইতে না পেরে তার মা বর্তমানে শয্যাশায়ী এবং ছোট ভাইকে গুরুতর অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত মহিবুর রহমানের বাড়ি ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের ঘাগলাজুর গ্রামে। পেশায় রাজমিস্ত্রি মহিবুর পরিবারের অভাব দূর করতে দালালের মাধ্যমে গ্রিস যাওয়ার উদ্দেশ্যে চার মাস আগে দেশ ছাড়েন। শান্তিগঞ্জ উপজেলার দালাল নবী হোসেনের মাধ্যমে ১৩ লাখ টাকা চুক্তিতে তিনি যাত্রা শুরু করেছিলেন। এজন্য তার বাবা জমি বিক্রি করার পাশাপাশি চড়া সুদে ঋণ নিয়েছিলেন। সোমবার গ্রিসের একটি ক্যাম্পে থাকা মারুফ আহমদ নামের এক সহযাত্রী টেলিফোনে মহিবুরের মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত করেন। মারুফের বর্ণনা অনুযায়ী, সাগরে ভাসমান নৌকায় দীর্ঘ সময় অনাহারে থেকে প্রথমে মহিবুর এবং পরবর্তীতে একে একে অন্য অভিবাসনপ্রত্যাশীরা মৃত্যুবরণ করেন।

মহিবুরের স্বজনরা জানান, লিবিয়া পৌঁছানোর পর সেখান থেকে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আকুতি জানিয়েছিলেন তিনি। তবে পরিবারের বিনিয়োগ করা বিপুল অর্থের কথা চিন্তা করে তিনি পুনরায় গ্রিসের পথে রওনা হন। দালালের পক্ষ থেকে কাঠের নৌকায় পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত প্লাস্টিকের ঝুঁকিপূর্ণ বোটে তাদের তুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২১ মার্চ লিবিয়া থেকে যাত্রা শুরুর পর সাগরে পথ হারিয়ে ছয় দিন ভাসতে থাকে নৌকাটি। খাবার ও পানির তীব্র সংকটে ২২ জন যাত্রী প্রাণ হারান, যাদের অধিকাংশই সুনামগঞ্জের বাসিন্দা। গত শুক্রবার গ্রিস উপকূলে জীবিতদের উদ্ধারের পর এই মর্মান্তিক ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।

ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন এবং স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে ভূমধ্যসাগরে এই গণমৃত্যুর ঘটনায় সুনামগঞ্জের দিরাই ও জগন্নাথপুর থানায় ইতোমধ্যে ৯ জন দালালের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। মহিবুরের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।