শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

যারা মৌলবাদী রাষ্ট্র বানাতে চায়, তারাই সিনেমা বন্ধ করেছে: রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে জেলার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।

যারা মৌলবাদী রাষ্ট্র বানাতে চায়, তারাই সিনেমা বন্ধ করেছে: রুমিন ফারহানা
ছবি : সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

সোমবার বিকেলে জেলার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।

উক্ত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অথচ বিগত ২০২১ সালে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর ঐতিহাসিক সঙ্গীতাঙ্গন পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে এই জেলায় কোনো সিনেমা হল নেই এবং কোনো ধরনের সাংস্কৃতিক সংগঠনকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেওয়া হচ্ছে না।

এর পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট কালো নকশা কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশকে প্রগতির পথ থেকে সরিয়ে একটি উগ্র মৌলবাদী রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিত করতে চায়, মূলত তারাই ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধ করিয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ যেমন কোনো নির্দিষ্ট দলের একার ছিল না, ঠিক তেমনি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানেও দেশের আপামর জনসাধারণ অংশ নিয়েছিল। তাই দেশের যেকোনো গণআন্দোলনকে কেউ যদি নিজের স্বার্থে কুক্ষিগত বা একক করায়ত্ত করতে চায়, তবে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও তার ফলাফল কখনো শুভ হবে না। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ একটি সম্পূর্ণ সামাজিক ও পারিবারিক গল্পের চলচ্চিত্র হওয়া সত্ত্বেও এটি বন্ধ করার সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে প্রশাসন সমাজে খুন, ধর্ষণ কিংবা দুর্নীতি দমন করতে হিমশিম খায়, তারা কেন একটি সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র বন্ধের পেছনে প্রচ্ছন্ন মদদ দেয়।

সংসদ সদস্য বলেন, গত দুই বছরে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাজার ভাঙচুর এবং কবর থেকে মরদেহ তুলে পুড়িয়ে ফেলার মতো উগ্র ডানপন্থী কর্মকাণ্ড দেখা গেছে, যা এই মাটির চিরায়ত সংস্কৃতির পরিপন্থী। এই দেশে আবহমানকাল ধরে আজানের সুমধুর ধ্বনির পাশাপাশি বাউল গানের চর্চাও সমান্তরালভাবে চলেছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখে প্রশ্ন জাগে, কারা এই দেশকে একটি প্রগতিহীন অন্ধকারের দিকে নিয়ে যেতে চাইছে। তিনি স্পষ্ট জানান, এমন রাষ্ট্র দেশের মানুষ প্রত্যাশা করে না এবং অবিলম্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্বিঘ্নে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

উক্ত প্রতিবাদ সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন উদীচী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস রহমান, রিফতি আল জাবেদ এবং সামাজিক সংগঠন ‘সোনালী সকাল’-এর সভাপতি ফাহিম মুনতাসিরসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ। বক্তারা সংস্কৃতির ওপর এমন আঘাতের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অনতিবিলম্বে যথাযথ প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। মানববন্ধনে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন এবং কর্মসূচি শেষে মহাসড়কে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। উল্লেখ্য, গত ৩০ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এই চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী হওয়ার কথা থাকলেও স্থানীয় ‘কওমী ছাত্র-জনতার’ একদলের আপত্তির মুখে শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করতে বাধ্য হয় আয়োজকরা, যা নিয়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।