বৃহস্পতিবার, 29 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

যদি কখনো মারা যাই, আমাদের খুনের বিচার যেন হয়: নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী

ঝিনাইদহে হামলার শিকার হওয়ার তিন দিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই রোমহর্ষক পরিস্থিতির বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

যদি কখনো মারা যাই, আমাদের খুনের বিচার যেন হয়: নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী
ছবি : সংগৃহীত

ঝিনাইদহে হামলার শিকার হওয়ার তিন দিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই রোমহর্ষক পরিস্থিতির বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি দাবি করেছেন, জুমার নামাজ শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার পরপরই তাঁর ওপর একটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়।

আজ সোমবার সকালে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘ফিরে আসা মৃত্যুর মুখ থেকে’ শিরোনামের একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই ঘটনা বর্ণনা করেন। একই সঙ্গে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে লেখেন, ভবিষ্যতে যদি কখনো তাঁরা মারা যান, তবে যেন অন্তত তাঁদের হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হয়।

ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উল্লেখ করেন, প্রয়াত ইসলামি চিন্তাবিদ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের কবর জিয়ারত এবং আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট পরিদর্শনের জন্য তিনি ঝিনাইদহ সফরে গিয়েছিলেন। সড়ক ও যানজটের কারণে কিছুটা বিলম্বে পৌঁছে তিনি সেখানকার কোর্ট জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পর হোটেলের দিকে রওনা হওয়ার সময় মসজিদ প্রাঙ্গণেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক এক আহ্বায়ক তাঁকে নানাভাবে হুমকি দিতে শুরু করেন। তিনি বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে চলে যেতে চাইলেও মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে।

হামলার বিবরণ দিয়ে তিনি লেখেন, হঠাৎ চারপাশ অন্ধকার মনে হলে সহযোদ্ধারা জানান যে তাঁর চোখে ডিম ছুড়ে মারা হয়েছে। এর পরপরই পাশ থেকে ধাক্কা ও ঘুষি মারা শুরু হলে তিনি কিছুটা অচেতন বোধ করেন। তবে তাঁর সঙ্গে থাকা কর্মীরা চারপাশ থেকে মানবঢাল তৈরি করে তাঁকে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। সেই সময় ইটের আঘাতে বেশ কয়েকজন কর্মীর মাথা ফেটে রক্তপাত শুরু হয়। এরপর হকিস্টিক ও লাঠিসোটা নিয়ে বৃষ্টির মতো হামলা শুরু হলে একপর্যায়ে তাঁরা প্রতিরোধের ডাক দেন এবং আক্রমণকারীদের কাছ থেকে কয়েকটি হকিস্টিক কেড়ে নেন, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উল্টোভাবে প্রচার করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এনসিপির এই শীর্ষ নেতা আরও দাবি করেন, হামলার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত কিছু পুলিশ সদস্যের ভূমিকাও ছিল আক্রমণকারীদের পক্ষে। ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির একশ্রেণির নেতাকর্মীর সঙ্গে পুলিশের অবস্থানকে তিনি একটি সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত হিসেবে দেখছেন। তবে স্থানীয় সাধারণ জনগণ তাঁদের রক্ষায় এগিয়ে এসেছিলেন বলেও জানান তিনি।

বিকালে দলীয় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি থাকায় এবং হামলার বিচার চেয়ে তাঁরা থানায় গিয়েছিলেন বলে জানান পাটওয়ারী। কিন্তু পুলিশ নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বিকালের অনুষ্ঠান বাতিলের নির্দেশ দেয় এবং অনুষ্ঠানস্থল কমিউনিটি সেন্টারটি সিলগালা করে দেয়। একই সঙ্গে পুলিশ তাঁদের ঝিনাইদহ ত্যাগ করার পরামর্শ দেয়। থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের সময় বিদ্যুৎ ও সার্ভার বিভ্রাটের অজুহাতে দীর্ঘ আট ঘণ্টা কালক্ষেপণ করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, একটি ফেসবুক পোস্ট এবং থানার সামনে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণার পর ওপর মহলের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত মামলা নথিভুক্ত করা হয়, তবে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত এক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম বাদ দিতে বাধ্য করা হয়েছিল।

ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর বর্তমানে ঝিনাইদহে এনসিপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন। লেখাটির শেষ অংশে তিনি হাদী ভাই নামক এক ব্যক্তির বিচার না পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, মানুষের কাছে বিচারের আশা কম থাকলেও তিনি আল্লাহর দরবারে এই অন্যায়ের বিচার প্রার্থনা করছেন।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২২ মে) ঝিনাইদহ পৌর কালেক্টরেট জামে মসজিদের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই সংগঠনের পক্ষ থেকে ছাত্রদল ও যুবদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছিল।