শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

যৌন অসদাচরণের অভিযোগে আইসিসির প্রধান প্রসিকিউটর করিম খান বরখাস্ত

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান কৌঁসুলি করিম খানের বিরুদ্ধে নতুন করে আরও একজন নারী যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনেছেন।

যৌন অসদাচরণের অভিযোগে আইসিসির প্রধান প্রসিকিউটর করিম খান বরখাস্ত
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান কৌঁসুলি করিম খানের বিরুদ্ধে নতুন করে আরও একজন নারী যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ওই নারীর দাবি, তার পেশাগত জীবনের শুরুর দিকে করিম খান তার সঙ্গে অনৈতিক আচরণ এবং ক্রমাগত শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিলেন।

এর আগে গত বছর আইসিসিরই এক নারী সহকর্মী প্রথমবারের মতো করিম খানের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তোলেন। সেই ঘটনার অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বিরত রয়েছেন। অবশ্য শুরু থেকেই নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব ধরনের অসদাচরণের দাবি নাকচ করে আসছেন আইসিসির এই শীর্ষ কর্মকর্তা।

জাতিসংঘের একটি স্বাধীন নজরদারি সংস্থা করিম খানের বিরুদ্ধে ওঠা প্রথম অভিযোগটির তদন্তভার পরিচালনা করছে। সেই প্রক্রিয়া চলমান থাকার মাঝেই তদন্তকারী দল দ্বিতীয় এই নারীর কাছ থেকে নতুন আরেকটি অভিযোগপত্র গ্রহণ করে।

গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় সামনে আসা এই ঘটনাটি ২০০৯ সালের। সেই সময় অভিযোগকারী নারী নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আইসিসি ও অন্যান্য যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে করিম খানের অধীনে একজন অবৈতনিক ইন্টার্ন হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং করিম খান তখন আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে যুক্ত ছিলেন। ভুক্তভোগী নারী জানান, পদমর্যাদার অপব্যবহার করে করিম খান তাকে প্রতিনিয়ত মানসিকভাবে হেনস্তা করতেন। সম্প্রতি অন্য এক কর্মীর সাহসিকতা দেখে তিনিও নিজের সঙ্গে ঘটা অতীত অন্যায় নিয়ে মুখ খোলার সিদ্ধান্ত নেন।

অন্যদিকে করিম খানের আইনি সহায়তাকারী দল উভয় অভিযোগকেই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে। তাদের বক্তব্য, করিম খান কখনোই কোনো ধরনের অনৈতিক বা যৌন অসদাচরণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। ৫৫ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ আইনজীবী ২০২১ সালে ৯ বছরের জন্য আইসিসির প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তার মেয়াদকালেই আন্তর্জাতিক এই আদালত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

করিম খান ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের দাবি, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এবং দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কারণেই মূলত আন্তর্জাতিক মহলের একটি অংশ তাকে পদচ্যুত ও হেয় করতে এই ধরনের সাজানো অভিযোগ সামনে আনছে।