মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতির ওপর চাপের মাত্রা আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর মেহেদীবাগে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই উদ্বেগের কথা জানান। তিনি বলেন, একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্ব রাজনীতির এই অস্থিরতা দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা সরাসরি অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার অত্যন্ত সজাগ রয়েছে, বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এখনো দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে, যাতে শিল্প-কারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়। এখন পর্যন্ত এই খাতটি স্থিতিশীল রয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাধারণ মানুষের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে আমির খসরু বলেন, সরকার তার পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে যুদ্ধের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদী হলে এর ভার শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপরও এসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য তিনি দেশবাসীকে ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের পাশাপাশি সরকারের প্রচেষ্টায় সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান। তিনি মনে করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, যেহেতু যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে নেই কিন্তু এর প্রভাব সরাসরি জ্বালানি আমদানির ওপর পড়ছে, তাই বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশ থেকে জ্বালানি আনার প্রক্রিয়া চালু হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার জিয়াউদ্দীন এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা উপস্থিত ছিলেন।