হাতে কিছুটা সময় থাকলে মার্কিন বাহিনী অনায়াসেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরানের তেল ভাণ্ডার কবজায় নিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে তার এমন আগ্রাসী বক্তব্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে অস্থিরতা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার শুক্রবারের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, আর অল্প কিছুদিন সময় পেলেই যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত সহজভাবে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে সক্ষম হবে। সেখান থেকে তেল আহরণ করে বিশাল অংকের মুনাফা অর্জনের পরিকল্পনাও ব্যক্ত করেন তিনি। তার মতে, এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এক আমূল পরিবর্তন আসবে।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ রুট হিসেবে পরিচিত। এই সরু জলপথ দিয়েই বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। বর্তমানে ইরান এই প্রণালির ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। যদিও ওয়াশিংটন এই রুটটি পুনরায় সচল করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তবে সামরিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে এই জলপথে নৌবাহিনীর অবস্থান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের ‘তেল দখল’ সংক্রান্ত এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। জাতিসংঘের ১৯৬২ সালের ‘প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর স্থায়ী সার্বভৌমত্ব’ নীতি অনুযায়ী, যেকোনো দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের নিরঙ্কুশ মালিকানা কেবল সেই রাষ্ট্রেরই। ট্রাম্প এর আগেও ইরাক ও ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ নিয়ে একই ধরনের বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন।
বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা সত্ত্বেও ইরানের শাসনব্যবস্থা ও সামরিক সক্ষমতা এখনো অটুট রয়েছে। তেহরান এখনো হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ট্রাম্প ইতিমধ্যে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং তেলক্ষেত্রসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামোগুলোতে বড় ধরনের হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন।