শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোতে থাকবেই—এমন ‘প্রতিশ্রুতি’ আমি দিতে পারছি না: ন্যাটোর সাবেক মহাসচিব

গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অবস্থান ন্যাটোর ঐক্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে ন্যাটোর সাবেক মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র জোটে থাকবে কি না—এ বিষয়ে তিনি কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না।

যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোতে থাকবেই—এমন ‘প্রতিশ্রুতি’ আমি দিতে পারছি না: ন্যাটোর সাবেক মহাসচিব
ন্যাটোর সাবেক মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ। ছবি: রয়টার্স

গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অবস্থান ন্যাটোর ঐক্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে ন্যাটোর সাবেক মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র জোটে থাকবে কি না—এ বিষয়ে তিনি কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না।

জার্মান সাময়িকী ডের স্পিগেল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্টলটেনবার্গ বলেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে ওয়াশিংটন যখন তাদের আগ্রহের কথা প্রকাশ করছে, তখন ইউরোপীয় দেশগুলোর উচিত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খনিজসমৃদ্ধ আর্কটিক দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড দখলের উদ্যোগ আবারও জোরালো করেছেন। এমনকি ন্যাটো যদি এই অবস্থানের বিরোধিতা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র জোট থেকে সরে যেতে পারে—এ সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি। এতে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি ন্যাটোর ঐক্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিক্রিয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্টলটেনবার্গ। তিনি নর্ডিক দেশগুলো, জার্মানি ও অন্যান্য ইউরোপীয় রাষ্ট্রের যৌথ বিবৃতির কথা উল্লেখ করেন, যেখানে কোপেনহেগেনের প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে এবং গ্রিনল্যান্ড যে ডেনমার্কের রাজ্যের অংশ—তা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। তাঁর মতে, ন্যাটো মিত্রদের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করাই জোটের মূল ভিত্তি।

ন্যাটোর সাবেক এই প্রধান বলেন, “আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হবে, আর এর অর্থ হলো—মতবিরোধ হলে তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা।”

ডেনমার্কের অবস্থানও স্পষ্ট—গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার সেখানকার জনগণের হাতেই থাকা উচিত। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দারা ডেনিশ সাম্রাজ্যের অধীনে স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার পক্ষে ভোট দেন, যার আওতায় খনিজ সম্পদ উত্তোলন নিয়ন্ত্রণের অধিকারও অন্তর্ভুক্ত।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বই গ্রিনল্যান্ডকে চীন বা রাশিয়ার প্রভাব থেকে রক্ষা করতে পারে। তবে এই দাবি চীন ও রাশিয়া—দুই দেশই প্রত্যাখ্যান করেছে।

এদিকে শুক্রবার ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রচেষ্টায় সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানানো বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর শুল্ক আরোপের কথা তিনি বিবেচনা করছেন।

গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন দুই দেশের মধ্যে ‘মৌলিক মতপার্থক্য’ থাকার কথা স্বীকার করেন। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সদ্য গঠিত একটি দ্বিপাক্ষিক কার্যকরী দল এই সংকট নিরসনে সহায়ক হবে।

অন্যদিকে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্স ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে জানিয়েছে—গ্রিনল্যান্ড দখলের যেকোনো চেষ্টা হবে ‘সীমা লঙ্ঘন’, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী সপ্তাহের শেষে অনুষ্ঠেয় ‘আর্কটিক এন্ডিউরেন্স’ সামরিক মহড়ার আগে ডেনমার্ক ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে গ্রিনল্যান্ডে ছোট ছোট সেনাদল মোতায়েন করেছে।