শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে কিউবার প্রেসিডেন্ট

কিউবার কমিউনিস্ট প্রশাসনের ওপর বৈশ্বিক চাপ আরও জোরদার করতে এবার দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল ও তাঁর স্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ ব্যক্তি ও একাধিক সংস্থার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে কিউবার প্রেসিডেন্ট
ছবি : সংগৃহীত

কিউবার কমিউনিস্ট প্রশাসনের ওপর বৈশ্বিক চাপ আরও জোরদার করতে এবার দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল ও তাঁর স্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ ব্যক্তি ও একাধিক সংস্থার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের আনুষ্ঠানিক পোর্টালে এই সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়।

ওয়াশিংটনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে কিউবান প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

মার্কিন অর্থ দপ্তরের নতুন এই তালিকায় প্রেসিডেন্ট দিয়াজ-কানেল ছাড়াও আরও চারজন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ফার্স্ট লেডি লিস কুয়েস্তা পেরাজা এবং কিউবার প্রভাবশালী কাস্ত্রো পরিবারের দুজন সদস্য। এছাড়া দেশটির বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রণালয়কেও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।

এই নিষেধাজ্ঞা জারির পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে জানান যে, ওয়াশিংটন সর্বদা কিউবাকে একটি সুশাসিত ও সুপরিচালিত রাষ্ট্র হিসেবে প্রত্যক্ষ করতে আগ্রহী।

উল্লেখ্য, ছেষট্টি বছর বয়সী মিগেল দিয়াজ-কানেল বিগত ২০১৮ সালে দেশটির দীর্ঘদিনের নেতা রাউল কাস্ত্রোর স্থলাভিষিক্ত হয়ে কিউবার রাষ্ট্রীয় শীর্ষ পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং তখন থেকেই তিনি দক্ষতার সাথে দেশ পরিচালনা করছেন।

এদিকে আমেরিকার এই নতুন পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে অত্যন্ত জঘন্য আচরণ বলে আখ্যা দিয়েছেন কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি একে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপের আরেকটি জ্বলন্ত প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন। সেই সাথে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দুই দেশের মধ্যে বৈরিতা ও সংঘাত সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আমেরিকার নেওয়া প্রতিটি চক্রান্তই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

কিউবান শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর ওয়াশিংটনের এমন রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর মাত্র এক মাস আগেও দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী, একাধিক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা এবং প্রধান গোয়েন্দা সংস্থাসহ মোট এগারোজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল মার্কিন প্রশাসন। এর বাইরেও ১৯৯৬ সালে একটি বিমান ভূপাতিত করার পুরনো একটি ঐতিহাসিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিউবার সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে হত্যা মামলাও দায়ের করেছে আমেরিকা। এসব ধারাবাহিক বৈরী পদক্ষেপের কারণে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এখন স্মরণকালের সবচেয়ে নাজুক ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।