যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তিটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপন এবং এর শর্তাবলী পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। বুধবার সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, এই চুক্তিতে দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণকারী বেশ কিছু ধারা রয়েছে। সরকার চাইলে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এটি বাতিল করার আইনি সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা জানান, মঙ্গলবার মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রীর একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ঘাটতি দূর করা, কৃষি ও জ্বালানি পণ্য আমদানি এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে নীতি সংস্কারের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। রুমিন ফারহানা বলেন, বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিমাণ পণ্য রপ্তানি হয়, তার তুলনায় দেশটি থেকে আমদানি অনেক কম হওয়ায় একটি বড় বাণিজ্য ঘাটতি বিরাজমান। এই ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যেই চুক্তিটি করা হয়েছে।
তবে চুক্তি স্বাক্ষরের সময়কাল নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি উল্লেখ করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি তড়িঘড়ি করে এই চুক্তিতে সই করা হয়েছিল। সে সময় দেশের সুশীল সমাজ ও থিংক ট্যাংকগুলো আপত্তি জানিয়ে বলেছিল যে, নির্বাচনের আগে একটি অনির্বাচিত সরকারের এমন সুদূরপ্রসারী চুক্তি করা সমীচীন নয়। নির্বাচিত সরকার আসার পর যেন এটি স্বাক্ষরিত হয়—এমন পরামর্শ দেওয়া হলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তা গ্রাহ্য করেনি।
রুমিন ফারহানার বক্তব্যের এই পর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাকে থামিয়ে দেন। স্পিকার মন্তব্য করেন যে, বিষয়টি পয়েন্ট অব অর্ডারের আওতাভুক্ত নয় এবং এটি একটি নতুন প্রসঙ্গের অবতারণা। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নোটিশ দিলে তা বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
স্পিকারের বক্তব্যের পর অতিরিক্ত সময় নিয়ে রুমিন ফারহানা আবারও দাবি করেন, চুক্তির অনেকগুলো ধারা বাংলাদেশের প্রতিকূলে। যেহেতু আইন অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে এটি বাতিলের সুযোগ সরকারের হাতে রয়েছে, তাই চুক্তিটি অবিলম্বে সংসদে উত্থাপন করে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ দেওয়া হোক।