বিনামূল্যে বিতরণের পাঠ্যবই নিয়ে বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়ায় অভিযুক্ত শিক্ষা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য মাঠ পর্যায় থেকে প্রায় এক কোটি অতিরিক্ত বইয়ের ভুয়া চাহিদা পাঠানোর প্রমাণ মেলায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি’র সমন্বয়ে গঠিত ৩৪টি তদন্ত দলের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, জেলা, থানা ও উপজেলা পর্যায়ের কিছু শিক্ষা কর্মকর্তা এই কারসাজির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এক শ্রেণির উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ বাড়তি বই সংগ্রহ করে আসছিলেন। পরবর্তীতে এই বইগুলো কালোবাজারে চড়া দামে বিক্রি করা হতো। এই অসাধু চক্রের সঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকরাও জড়িত বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের বই ছাপানোর প্রস্তুতি চলাকালীন একটি সরকারি সংস্থার তথ্যে এই গড়মিল ধরা পড়লে নড়েচড়ে বসে এনসিটিবি। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে যেখানে বইয়ের সংখ্যা ছিল ২১ কোটি ৩৭ লাখের বেশি, সেখানে পরবর্তী বছরের জন্য প্রায় ৯৪ লাখ বাড়তি বইয়ের চাহিদাপত্র জমা দেওয়া হয়। বিষয়টি মন্ত্রীর নজরে এলে তিনি প্রতিটি উপজেলা থেকে পুনরায় চাহিদা পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কোনো কোনো উপজেলায় গত বছরের তুলনায় বিস্ময়করভাবে ১৭৯ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত চাহিদা পাঠানো হয়েছে। মূলত কিছু অসাধু প্রেস মালিকের সঙ্গে আঁতাত করে বই না ছাপিয়েই সরকারি অর্থ আত্মসাৎ অথবা ছাপানো বই কেজি দরে বাজারে বিক্রি করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়। এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রীর কঠোর অবস্থানের কারণে এবার অন্তত দুই শতাধিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিভাগীয় শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছেন।
ইতিমধ্যে এই অনিয়মের জেরে এনসিটিবির শীর্ষ পর্যায়েও রদবদল করা হয়েছে। গত ১৩ এপ্রিল এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) পদ থেকে অধ্যাপক রিয়াদ চৌধুরীকে সরিয়ে ওএসডি করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন অধ্যাপক আবু নাসের টুকু। তিনি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, তদন্ত প্রতিবেদনে প্রায় এক কোটি বাড়তি বইয়ের চাহিদার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে এবং এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সময়মতো মানসম্মত বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই শুদ্ধি অভিযান চালানো হচ্ছে।







