ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেশটির তেল বাণিজ্য পুরোপুরি স্থবির করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবরোধ অব্যাহত থাকবে। এএফপির বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বেসেন্ট মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
স্কট বেসেন্ট তার বার্তায় উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর নজরদারি ও অবরোধ বজায় থাকবে। তিনি দাবি করেন, খুব শিগগিরই ইরানের খার্গ দ্বীপের তেল ডিপোগুলোর ধারণক্ষমতা শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ করতে না পারায় তেহরান তাদের তেলকূপগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে। মূলত ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস তেলের বাজারকে লক্ষ্য করেই এই কৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী আরও জানান, তেহরানের আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে পরিকল্পিতভাবে 'সর্বোচ্চ চাপ' প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় তেহরানের তহবিল সংগ্রহ, অর্থ স্থানান্তর এবং বিদেশে আটকে থাকা অর্থ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার সব প্রচেষ্টাকে পদ্ধতিগতভাবে নস্যাৎ করবে। 'ইকোনমিক ফিউরি' বা অর্থনৈতিক ক্রোধের মাধ্যমে ইরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে পঙ্গু করে দেওয়াই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।
বেসেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো রাষ্ট্র বা সংস্থা যদি এই পরিস্থিতিতে ইরানকে সহযোগিতা করে, তবে তাদেরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে। এছাড়া ইরানের সরকার তথাকথিত দুর্নীতির মাধ্যমে যে বিশাল অর্থসম্পদ গড়ে তুলেছে, তা জনগণের পক্ষে ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করার প্রক্রিয়াও অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত তেহরানকে আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করাই এখন যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার।







