আর্কাইভ
ads
logo

সবগুলো ধর্ম অবমাননা করছে ইসরায়েল, রাষ্ট্রীয় নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশকাল: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫২ এ.এম
সবগুলো ধর্ম অবমাননা করছে ইসরায়েল, রাষ্ট্রীয় নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন

ছবি: কোলাজ, দ্য ভয়েস২৪

ads

লেবাননের খ্রিস্টান অধ্যুষিত ডেবেল শহরে এক ইসরায়েলি সেনার হাতে যিশু খ্রিস্টের মূর্তি ভাঙার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এছাড়াও সব ধর্মকে অবমাননার অভিযোগ থাকায় দেশটির সমাজে নৈতিক অবক্ষয়ের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।

ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করে আসা ইসরায়েলের এই অবস্থান এমন ঘটনার পর প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এটি কেবল একজন সেনার ব্যক্তিগত অপরাধ নয়; বরং বাহিনীর ভেতরে বাড়তে থাকা উগ্রতা ও শৃঙ্খলার অভাবের প্রতিফলন।

ভাইরাল হওয়া এই ছবি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কট্টর ডানপন্থী ও খ্রিস্টান জায়নিস্ট গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এটি ইসরায়েলবিরোধী মনোভাব আরও উসকে দিতে পারে। ইতোমধ্যে কিছু খ্রিস্টান গোষ্ঠী অভিযোগ তুলেছে, ইসরায়েল খ্রিস্টানদের প্রতি বৈরী মনোভাব পোষণ করে এবং ফিলিস্তিনিরাই তাদের প্রকৃত মিত্র।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরোনো ধর্মীয় অভিযোগগুলোও নতুন করে সামনে আসছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের কূটনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে বলে মত দিয়েছেন পর্যবেক্ষকরা। এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘটনাটিকে ‘বিস্ময়কর ও দুঃখজনক’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা একে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখতে রাজি নন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূর্তি ভাঙার সময় ঘটনাস্থলে আরও কয়েকজন সেনা ও একজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু কেউ বাধা দেননি। এর আগে গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে কুরআন পোড়ানো, গির্জায় ব্যঙ্গাত্মক অনুষ্ঠান আয়োজন এবং বন্দীদের ওপর নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।

এসব ঘটনায় কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় সেনাদের মধ্যে দায়মুক্তির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একদিকে শাব্বাত পালনের নিয়ম ভাঙার দায়ে সীমান্ত পুলিশের শাস্তির নজির থাকলেও, খ্রিস্টান ধর্মীয় স্থাপনা অবমাননার ঘটনায় অভিযুক্তদের কী শাস্তি হবে—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

ইসরায়েলের ভেতরেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতাদের ওপর হামলা, থুতু নিক্ষেপ এবং কবরস্থান ভাঙচুরের ঘটনা বেড়েছে। গত বছর গাজার একমাত্র ক্যাথলিক গির্জায় ট্যাংকের গোলায় তিনজন নিহত এবং পাদ্রি গ্যাব্রিয়েল রোমানিল্লি আহত হওয়ার ঘটনাও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

ইসরায়েলি এক সাংবাদিকের মতে, এসব ঘটনা ইঙ্গিত দেয় যে দেশটি ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থেকে সরে গিয়ে ক্রমশ উগ্র ধর্মীয় ও রাজনৈতিক চরমপন্থার দিকে এগোচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী দ্রুত এই নৈতিক অবক্ষয় নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে তা শুধু লেবানন বা গাজা নয়, বরং ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

ads

এই বিভাগের আরও খবর

ads
ads
manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ