ইরানকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই আলোচনার নতুন পর্ব এগিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের সঙ্গে চুক্তি বিষয়ে আলোচনা করতে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার সকালের মধ্যেই তিনি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়বেন বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস তিনটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে।
এদিকে সিএনএন-এর বরাতে একাধিক সূত্র বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা বুধবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই বিষয়ে সোমবার বিবিসি-কে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল শিগগিরই পাকিস্তান সফরে যাবে।
তবে আলোচনায় ইরান অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি তেহরান। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, দ্বিতীয় দফা আলোচনায় অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি বলেন,
“এখন পর্যন্ত (সংবাদ সম্মেলন চলার সময়) পরবর্তী দফার আলোচনার বিষয়ে আমাদের কোনো পরিকল্পনা নেই। এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি।”
বাঘাই অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে, যা প্রমাণ করে তারা কূটনৈতিক আলোচনায় আন্তরিক নয়। তার দাবি, আলোচনার কথা বললেও বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র এমন আচরণ করছে যা তাদের সদিচ্ছাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
তিনি আরও বলেন, কার্গো জাহাজ জব্দ ও সামরিক কর্মকাণ্ডের ঘটনাগুলো যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী বুধবার শেষ হচ্ছে। এর মধ্যে নতুন কোনো সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি ফের সংঘাতে রূপ নিতে পারে—এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আগামী দুই দিনে ইসলামাবাদে কিছু ঘটতে পারে। আমরা সেখানে যাওয়ার ব্যাপারে বেশি আগ্রহী।”
উল্লেখ্য, এর আগের দফা আলোচনায় ইসলামাবাদে জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রায় ২১ ঘণ্টার বৈঠক হলেও কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি। মঙ্গলবার সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরান ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক বার্তা বিনিময় অব্যাহত রয়েছে।







