রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণে খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি হাজারীবাগের জিগাতলা এলাকার সুলতানগঞ্জের বাসিন্দা কে এম ফকরুদ্দিনের ছেলে।
মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে শহীদ শাহ নেওয়াজ হল সংলগ্ন বটতলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহাদৎ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, পিবিআই ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করেছে। বিস্তারিত পরিচয় যাচাইয়ের কাজ চলছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক টিটনকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও বলেন, “২০০১ সালে ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেই তালিকার ২ নম্বর আসামি টিটন। তিনি দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন। ৫ আগস্টের পর সম্ভবত ১৩ আগস্ট তিনি জামিনে মুক্ত হন।”
তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনাটি পরিকল্পিত হতে পারে এবং এর পেছনে আন্ডারওয়ার্ল্ড সংশ্লিষ্ট কেউ জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখনো কাউকে শনাক্ত করা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, টিটন বটতলা এলাকা থেকে নিউমার্কেটের দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন। শহীদ শাহ নেওয়াজ হলের গেটের সামনে আগে থেকেই একটি মোটরসাইকেলে দুইজন অবস্থান করছিল।
চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থী মো. মেজবাহ রহমান বলেন, দুইজন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে এসে ওই যুবককে এলোপাতাড়ি গুলি করে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি রাস্তায় পড়ে গেলে আশপাশের লোকজন ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। হামলাকারীরা ক্যাপ ও মাস্ক পরা ছিলেন বলেও তিনি জানান।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী রতন হোসেন বলেন, “ওই যুবক হেঁটে যাচ্ছিলেন। গেটের কাছে মোটরসাইকেলে দুইজন অপেক্ষা করছিলেন। তিনি কাছে আসতেই একজন নেমে চার রাউন্ড গুলি করে। পরে মাটিতে পড়ে গেলে মাথায় আরও একটি গুলি করে। লোকজন এগিয়ে এলে তারা আবার গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।”
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, নিহতের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।







