আর্কাইভ
ads
logo

ঢাকার সড়কে নজর রাখছে এআই ক্যামেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশকাল: ১৩ মে ২০২৬, ০৫:৩৯ পি.এম
ঢাকার সড়কে নজর রাখছে এআই ক্যামেরা

ছবি : সংগৃহীত

ads

ব্যবস্থা চালু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের শনাক্ত করতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (এআই) স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা।

এখন থেকে সড়কে নিয়ম ভাঙলে সরাসরি ট্রাফিক পুলিশের হাতে ধরা পড়ার প্রয়োজন নেই; বরং উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা সম্পন্ন হবে।

নতুন এই পদ্ধতিতে কোনো যানবাহন আইন লঙ্ঘন করলে ক্যামেরা তা শনাক্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে মামলা তৈরি করবে। পরবর্তীতে সেই ডিজিটাল মামলার তথ্য সরাসরি গাড়ির মালিকের মোবাইল ফোন এবং স্থায়ী ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকার ৮টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এই এআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ৬০টি এবং এক বছরের মধ্যে মোট ১২০টি স্থানে এই প্রযুক্তি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে গুলশান-২ ও বনানীর মতো ব্যস্ত ও অভিজাত এলাকাগুলোতে হাই-ডেফিনিশন ক্যামেরা বসিয়ে যানবাহনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এই ক্যামেরাগুলো প্রতিটি গাড়ির নম্বর প্লেট নিখুঁতভাবে পড়তে সক্ষম। কোনো চালক ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করলে কিংবা উল্টো পথে গাড়ি চালালে তা রেকর্ড হয়ে যায়। এরপর বিআরটিএর ডাটাবেজ থেকে তথ্য নিয়ে মুহূর্তেই ডিজিটাল প্রসিকিউশন তৈরি করা হয়।

ইতোমধ্যে এই প্রযুক্তির সহায়তায় ২ হাজারের বেশি আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে এবং প্রায় ৪০০ মামলার প্রক্রিয়া চলছে। এই উদ্যোগকে অনেক চালক স্বাগত জানালেও বিআরটিএর ডাটাবেজের নির্ভুলতা নিয়ে কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেক বাসচালকের মতে, যানজটের চাপে অনেক সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে নিয়ম ভাঙতে হয়, যা ডিজিটাল জরিমানার ক্ষেত্রে তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে।

মাঠ পর্যায়ের ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছেন, এআই ক্যামেরা চালুর ফলে সড়কে সিগন্যাল মানার প্রবণতা আগের চেয়ে বেড়েছে। তবে পরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল ক্যামেরা দিয়ে ঢাকার জটিল ট্রাফিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান ও অধ্যাপক ড. শামসুল হকের মতে, বিআরটিএর দুর্বল ডাটাবেজ ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এই প্রযুক্তির পূর্ণ কার্যকারিতার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান এ প্রসঙ্গে জানান, সূচনালগ্নে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও এই প্রযুক্তি ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনবে। একটি আধুনিক ও সুশৃঙ্খল সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, যান্ত্রিক নজরদারির এই পদ্ধতি কার্যকর হলে নগরবাসীর মধ্যে ট্রাফিক আইন মানার সংস্কৃতি আরও জোরালো হবে।

ads
ads
ads
manusherkotha

manusherkotha

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ