জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আগামী ৫ আগস্টের আগেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ অথবা আগস্টের প্রথম দিনে এই উদ্বোধন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হতে পারে, যার পরপরই সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য এটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। সংস্কৃতিমন্ত্রীর বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম মন্তব্য করেছেন যে, শেখ হাসিনার শাসনামলের যাবতীয় অপকর্মের দালিলিক প্রমাণ এই জাদুঘরে স্থান পেয়েছে।
মঙ্গলবার ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীকে সাথে নিয়ে নির্মাণাধীন জাদুঘরটি পরিদর্শন করেন স্পিকার। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন গণঅভ্যুত্থানের মুখে দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটে এবং শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। ওই দিন দুপুরে বিক্ষুব্ধ জনতা গণভবনে প্রবেশ করে বিপ্লবের চূড়ান্ত রূপ দেয়।
বিগত প্রায় ২৮ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত ঐতিহাসিক গণভবনকে জুলাই জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর দায়িত্ব নেওয়া বর্তমান বিএনপি সরকার সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাজ অব্যাহত রেখেছে। পরিদর্শন শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এই জাদুঘর যতদিন টিকে থাকবে, ততদিন এ দেশের মানুষ স্বৈরাচারী ও মাফিয়া শাসনের বিরুদ্ধে ঘৃণাবোধ লালন করবে এবং জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ১৬ বছরের নিপীড়ন, নৈরাজ্য ও পাতানো নির্বাচনের সঠিক চিত্র অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল জাদুঘরটিকে ফ্যাসিজম থেকে বাংলাদেশের মুক্তির প্রতিবিম্ব হিসেবে অভিহিত করেন। অন্যদিকে, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় জানান, উদ্বোধনের সকল প্রস্তুতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে এবং আগস্টের শুরুতে এটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে স্পিকার ও তাঁর সফরসঙ্গীরা জাদুঘরের ‘লং ওয়াক টু ডেমোক্রেসি রোডে’ ১৯৭১ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ঐতিহাসিক ঘটনাবলির স্থিরচিত্র পর্যবেক্ষণ করেন। বিশেষ করে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ আনাসের চিঠি, শহীদ আবরার ফাহাদের স্মৃতি কর্নার এবং ‘আয়নাঘর’-এর ক্ষুদ্র প্রতিকৃতি দেখে তাঁরা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। এছাড়া শহীদ জাহিদুজ্জামান তানভীনের তৈরি সংসদ ভবনের মডেল এবং সৌদিপ্রবাসী শহীদ আবু ইসহাকের রক্তমাখা পোশাক দেখে প্রতিনিধি দলটি শোকাতুর হয়ে পড়েন। মূলত গণতন্ত্রের জন্য জীবন উৎসর্গ করার বীরত্বগাথা এই জাদুঘরের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।







