- জাতীয়
- সারাদেশে ১০টি আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
-
সারাদেশে ১০টি আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশকাল: ১৯ জুলাই ২০২৬, ১২:২৫ পি.এম
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ন্যূনতম একটি করে খেলার মাঠ প্রস্তুত করার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে ১০টি আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া পল্লী বা স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এই মেগা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত ১০টি আন্তর্জাতিক স্পোর্টস ভিলেজের মধ্যে একটি নারায়ণগঞ্জে স্থাপন করার ইচ্ছা রয়েছে সরকারের এবং পরবর্তীতে দেশের ৬৪টি জেলাতেই একটি করে স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে।
গত শনিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের ওসমানী স্টেডিয়ামে আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়া ফুটবল টুর্নামেন্টের সমাপনী ম্যাচ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এই নতুন উদ্যোগের কথা প্রকাশ করেন। নারায়ণগঞ্জ ফুটবল একাডেমি আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করে মোস্তাফিজুর রহমান ফাউন্ডেশন।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় বলেন, বর্তমান প্রশাসন আগামী দিনের বাংলাদেশে ক্রীড়াঙ্গনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং একে একটি সম্মানজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সরকার কেবল ক্রিকেট কিংবা ফুটবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সব ধরনের খেলাধুলার সমান বিকাশ ঘটাতে চায়। একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠনে ক্রীড়াচর্চার কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলাকে ছড়িয়ে দিতে শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়ে তিনি জানান, জাতীয় শিক্ষাক্রমে খুব শীঘ্রই 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস টুর্নামেন্ট' অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আগামী দিনের শিক্ষা ব্যবস্থা এমনভাবে সাজানো হচ্ছে যেখানে পরীক্ষার মোট নম্বরের ৬০ শতাংশই থাকবে মাঠের ক্রীড়াচর্চার ওপর। এর ফলে শিক্ষাগত যোগ্যতার খাতিরে হলেও অভিভাবকেরা তাঁদের সন্তানদের মাঠে পাঠাতে উদ্বুদ্ধ হবেন।
মাঠের সংকট দূরীকরণে সরকারের কঠোর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে আমিনুল হক বলেন, অতীতে যেখানে খালি জায়গা পেলেই ভবন নির্মাণ করা হতো, সেখানে বর্তমান সরকার খালি স্থানে খেলার মাঠ তৈরির স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। এই লক্ষ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে আট বিঘা করে জমি বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে দেশের ৩০০ সংসদ সদস্যকে ইতোমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে। মাঠ প্রস্তুতের এই কাজে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করেছেন এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে মাঠ দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও জানান, দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাঁতার শেখা নিশ্চিত করতে ২২টি জেলায় থাকা বিদ্যমান সুইমিংপুলগুলো দ্রুত সংস্কার করা হবে এবং আগামী পাঁচ বছরে সবকটি জেলায় নতুন সুইমিংপুল তৈরি করা হবে। পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা স্টেডিয়ামের আধুনিকায়ন ও সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
উক্ত ক্রীড়া অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ এবং নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজিব। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু ও মোস্তাফিজুর রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রাকিবুর রহমান রাকিবসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।