- জাতীয়
- প্রবাসী কার্ডের সুবাদে মিলবে ১০ সুবিধা, আগস্টে পরীক্ষামূলক যাত্রা-
-
প্রবাসী কার্ডের সুবাদে মিলবে ১০ সুবিধা, আগস্টে পরীক্ষামূলক যাত্রা-
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশকাল: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০১:২১ পি.এম
প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামাজিক সম্মান বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং উন্নত নাগরিক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে নতুন ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা প্রবাসীদের জন্য কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গত শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চামেলী হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এই বিশেষ কার্ডের সার্বিক রূপরেখা ও কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা সম্পন্ন হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, আগামী আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্ডের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে এই ডেবিট কার্ডটি প্রবাসীদের মাঝে বিতরণ করা হবে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে অন্তত ২ লাখ প্রবাসীর হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে এই কার্ডের যাবতীয় কার্যক্রম প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের অধীনে স্থানান্তরিত হবে।
এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ১০টি গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ সেবা ভোগ করতে পারবেন। সুবিধাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—দেশের বিমানবন্দরগুলোতে দ্রুত ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার সুযোগ, উন্নত বিমান লাউঞ্জ ব্যবহার, বিমানের টিকিট এবং হোটেল বুকিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ মূল্যছাড়সহ এয়ারপোর্ট পিক-অ্যান্ড-ড্রপ সেবা। এর পাশাপাশি কার্ডধারীরা সরকারি হাসপাতালে নির্দিষ্ট বুথের মাধ্যমে এবং বেসরকারি হাসপাতালে বিশেষ ছাড়ে চিকিৎসা গ্রহণের সুবিধা পাবেন। কোনো প্রবাসীর প্রবাসে মৃত্যু হলে তার মরদেহ সম্পূর্ণ সরকারি খরচে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এছাড়াও রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, সহজ ক্রেডিট স্কোরিং ও বিশেষ ঋণ সুবিধা যুক্ত থাকবে এই কার্ডে। জমি নিবন্ধন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ, পাসপোর্ট তৈরি, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন এবং কনস্যুলার সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে কার্ডধারীদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একই সাথে প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসন ও কার্যকর বীমা সুবিধা নিশ্চিত করবে এই কার্ড।
অনুষ্ঠিত এই নীতি-নির্ধারণী সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করার তাগিদ দেন। একই সাথে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে অবস্থানরত সকল কর্মজীবী প্রবাসী বাংলাদেশি যেন এই কার্ডের সুফল সমানভাবে ভোগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কড়া নির্দেশনা প্রদান করেন।
উক্ত বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক নূর, প্রধানমন্ত্রীর সম্মানিত উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন, এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খানসহ প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে জাতীয় পর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়িত ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ক্রীড়া কার্ডের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবার প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জীবনযাত্রাকে আরও সহজ, নিরাপদ ও সুসংহত করার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান প্রশাসন।