- জাতীয়
- আদিবাসী শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন ডেপুটি স্পিকার
-
আদিবাসী শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন ডেপুটি স্পিকার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশকাল: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০১:১৬ পি.এম
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের সাগরদিঘী গ্রামের এক আদিবাসী দম্পতির শিশুসন্তান সেংনাম শিমনের হার্টে ছিদ্র ধরা পড়ায় পরিবারটি চরম বিপাকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল। একটা সময় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা ও খেলাধুলা করা ফুটফুটে এই শিশুটি এখন সামান্য নড়াচড়াতেই হাঁপিয়ে ওঠে এবং মারাত্মক শারীরিক ক্লান্তি অনুভব করে।
থিওফিল সাংমা ও মারিয়া নেংমীঞ্জা দম্পতির এই সন্তানের জন্মের পর পরিবারে আনন্দের জোয়ার এলেও চিকিৎসকদের দেওয়া এক তথ্যে সব আনন্দ ম্লান হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটি জন্মগতভাবেই হৃদযন্ত্রে ছিদ্র নিয়ে পৃথিবীতে এসেছে এবং তাকে বাঁচাতে হলে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। এই ব্যয়বহুল চিকিৎসার জন্য প্রায় তিন থেকে চার লাখ টাকার প্রয়োজন, যা এই দরিদ্র পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। সন্তানের জীবন রক্ষা করা নিয়ে একপ্রকার দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন তার বাবা-মা।
অসহায় এই আদিবাসী শিশুটির অসুস্থতা এবং তার পরিবারের আর্থিক অনটনের বিষয়টি জানতে পেরে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (এমপি)। দুঃখী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ধারাবাহিকতায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেন এবং তার একটি বিশেষ প্রতিনিধি দলকে শিশুটির পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। ডেপুটি স্পিকারের এই মানবিক উদ্যোগের পর তার সহযোগী দল পুরো চিকিৎসার তদারকির ভার নেয়। এরই অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ছোট্ট শিমনকে রাজধানীর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকেরা আশা প্রকাশ করেছেন, সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুটি আবারও স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে পারবে।
এমন কঠিন পরিস্থিতিতে পাশে দাঁড়ানোর জন্য ডেপুটি স্পিকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন শিশুটির পিতা থিওফিল সাংমা। তিনি বলেন, সামর্থ্যের অতীত এই বিপদের দিনে ডেপুটি স্পিকারের এমন পরম সহযোগিতা তাদের মনে নতুন করে বেঁচে থাকার সাহস জুগিয়েছে। একই সাথে তিনি তার সন্তানের দ্রুত আরোগ্যের জন্য দেশবাসীর কাছে বিশেষ প্রার্থনা ও আশীর্বাদ কামনা করেছেন।
ডেপুটি স্পিকারের সহযোগী দলের সদস্যরা জানান, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তাদের মূল লক্ষ্য। অর্থের অভাবে যাতে কোনো মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্যে সমাজের সামর্থ্যবান ও হৃদয়বান ব্যক্তিদেরও যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ খান বলেন, থিওফিল সাংমা অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় সন্তানের এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা করানো তাদের পক্ষে আকাশকুসুম কল্পনা ছিল। এমন একটি অসহায় পরিবারের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য তিনি ডেপুটি স্পিকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এর আগেও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নিজস্ব তহবিল থেকে বহু অসচ্ছল শিক্ষার্থীকে সহায়তা, কর্মসংস্থান তৈরি, দৃষ্টিহীন ও জটিল রোগীদের উন্নত চিকিৎসা প্রদান এবং গৃহহীনদের ঘর উপহার দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সত্যিই প্রশংসনীয়।
বিষয়টি নিয়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সকলের কাছে দোয়া প্রার্থনা করে বলেন, নিষ্পাপ শিশু সেংনাম শিমনের অস্ত্রোপচার যেন সফলভাবে শেষ হয় এবং সে যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে, সেজন্য তিনি দেশবাসীর আন্তরিক দোয়া কামনা করছেন।