- আন্তর্জাতিক
- ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য নেই: মোজতবা খামেনি
-
ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য নেই: মোজতবা খামেনি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশকাল: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০১:১৩ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরকারপ্রধানদের মধ্যে সম্পাদিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক ওয়াশিংটন বারবার অমান্য করেছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইরানের শীর্ষ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি মন্তব্য করেছেন, পরাশক্তি দেশটির একের পর এক চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনা এটিই স্পষ্ট করে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের বাস্তবে কোনো কার্যকারিতা বা মূল্য নেই। তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি এই অবস্থান ব্যক্ত করেন।
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে সই হওয়া দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলো বারবার ভঙ্গ করে বৈশ্বিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্র নিজের অবিশ্বস্ততার প্রমাণ দিয়েছে। এর মাধ্যমে এটি আবারও প্রমাণিত হলো যে মার্কিন প্রশাসনের প্রধানের দেওয়া কোনো প্রতিশ্রুতির আইনি বা নৈতিক ভিত্তি নেই। তিনি আরও যোগ করেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অন্য দেশের ওপর জোরজুলুম চালানো, একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং চরম নির্মমতা প্রদর্শন করাই মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির মূল চরিত্র।
মার্কিন প্রশাসনকে কঠোর বার্তা দিয়ে খামেনি বলেন, ওয়াশিংটন যদি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি কিংবা সংঘাত আরও উসকে দিতে চায়, তবে তার চড়া মূল্য দিতে হবে এবং এর ফলশ্রুতিতে তাদের চরম আন্তর্জাতিক অপমানের মুখোমুখি হতে হবে। ইরানের সাধারণ মানুষ এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রশক্তি বা ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এমন প্রতিরোধ গড়ে তুলবে যা হোয়াইট হাউস দীর্ঘকাল মনে রাখতে বাধ্য হবে বলে তিনি দাবি করেন।
বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানের অভ্যন্তরীণ শক্তি বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, এই সংকটের মুহূর্তে দেশ ও জাতির প্রতিটি স্তরে ইস্পাতকঠিন একতা বজায় রাখাই প্রধান দায়িত্ব। চতুর ও অপরাধপ্রবণ শত্রুর হাত থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব, মর্যাদা এবং স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। খামেনির দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির দক্ষিণ সীমান্তে ইরানি বাহিনী যে অসীম সাহসিকতা দেখিয়েছে এবং সাধারণ নাগরিকেরা যেভাবে অনড় অবস্থান নিয়েছেন, তা মার্কিন নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি বড় ধরনের বার্তা।
অনুরূপ সুর শোনা গেছে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কণ্ঠেও। তিনিও সামাজিক মাধ্যমে দেশের নাগরিকদের অভ্যন্তরীণ সকল প্রকার ভেদাভেদ ও পারস্পরিক মতবিরোধ ভুলে এক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে শত্রুর বিরুদ্ধে জয়ী হওয়ার প্রধান হাতিয়ার হলো জাতীয় সংহতি বজায় রাখা।
এর আগে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে অবহিত করেছিলেন যে, ওয়াশিংটন চুক্তির শর্তসমূহ একের পর এক লঙ্ঘন করায় তেহরানও দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার আলোকে দেওয়া নিজেদের সকল প্রতিশ্রুতি সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা ও চলমান যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটাতে গত জুন মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। তবে সেই শান্তি চুক্তির পরেও দুই দেশের মধ্যে উপর্যুপরি হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটায় অঞ্চলটিতে নতুন করে যুদ্ধক্ষেত্রের বিস্তৃতি ঘটছে।