- আন্তর্জাতিক
- মুসলিম বিশ্বে ‘ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের’ জোর দাবি ইরানের
-
মুসলিম বিশ্বে ‘ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের’ জোর দাবি ইরানের
আন্তজার্তিক ডেস্ক
প্রকাশকাল: ৮ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫২ পি.এম
বিশ্বের সর্বাধুনিক ও বিপুল ব্যয়বহুল সামরিক শক্তিকে প্রতিহত করে নিজেদের অসাধারণ প্রস্তুতি ও প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা তুলে ধরেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।
বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে নিজস্ব শক্তির ওপর ভরসা করার পরামর্শ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে কৃত্রিম ভেদাভেদ ঘুচিয়ে আন্তরিক সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার জোর তাগিদ দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। একই সাথে মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ভৌগোলিক সীমানার প্রাচীর পেরিয়ে সমগ্র মুসলিম সমাজকে একাট্টা হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি উল্লেখ করেন, ইরানের সুসংগঠিত সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিপরীতে নিজেদের সুদৃঢ় অবস্থান ও সক্ষমতা প্রতিপন্ন করেছে। আঞ্চলিক শান্তির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি লেখেন, মুসলিম উম্মাহ একতাবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালে যেকোনো বহিরাগত অপশক্তির তৈরি চক্রান্ত বা চ্যালেঞ্জ সম্মিলিতভাবে নস্যাৎ করা সম্ভব। তাই এখনই সময় অন্য কোনো পরাশক্তির মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজেদের স্বাবলম্বী করা এবং পারস্পরিক প্রকৃত ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলা।
অন্যদিকে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর সাথে কূটনীতির বিষয়ে দেশটির অবস্থান পরিষ্কার করেছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে যেকোনো ধরনের সংলাপে অংশ নিতে তেহরান প্রস্তুত বলে তিনি নিশ্চিত করেন। তবে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ক্ষুণ্ণ করে—এমন কোনো অযৌক্তিক শর্ত ইরান কোনোভাবেই গ্রহণ করবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি। বর্তমান নাজুক পরিস্থিতিতে ভৌগোলিক টানাপোড়েন রোধ করে নিকটবর্তী দেশগুলোর সাথে দ্বিপক্ষীয় বন্ধন আরও মজবুত করা জরুরি বলে তিনি অভিমত দেন।
ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বার্তায় দাবি করেছে, ওয়াশিংটন বর্তমানে নিজস্ব ফাঁদে নিজেরাই বন্দি হয়ে পড়েছে। সামরিক সক্ষমতা ও গণমাধ্যমের সমস্ত প্রচারণাকে কাজে লাগিয়েও ইরানের বিরুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পেতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে মার্কিন প্রশাসন। তাদের মতে, এই সংঘাত আমেরিকার জন্য এক গভীর কৌশলগত সংকট তৈরি করেছে, যা পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব এবং বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র প্রভাব হ্রাসের বিষয়টিকে স্পষ্ট করে তুলেছে। প্রসঙ্গত, চলমান উত্তেজনার মাঝে ভূখণ্ডে আগ্রাসনের জবাব হিসেবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হেনে নিজেদের শক্তির বার্তা দিয়েছিল ইরানি বাহিনী।