আজ সারা দেশে পালিত হচ্ছে জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস। কার্যকর রাষ্ট্র পরিচালনা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রত্যয় নিয়ে উদযাপিত এবারের প্রতিপাদ্যে সঠিক নথিবদ্ধকরণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনা প্রণয়ন, ন্যায়সঙ্গত রাষ্ট্রীয় সম্পদ বণ্টন, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার প্রসার এবং নাগরিকের সুরক্ষায় এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত জরুরি হলেও দেশে এখন পর্যন্ত সিংহভাগ মানুষ এই ব্যবস্থার বাইরে রয়ে গেছে।
চলতি দশকের মধ্যে দেশের প্রতিটি নাগরিককে এই কাঠামোর আওতায় আনার প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বিদ্যমান আইনের সীমাবদ্ধতা বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, দেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের বিস্তার যথাক্রমে শতকরা পঞ্চাশ ও সাতচল্লিশ ভাগে সীমাবদ্ধ। ফলে দেশের অর্ধেকেরও বেশি জনগোষ্ঠী শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক সেবা লাভের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছে।
যথাযথ নথির অনুপস্থিতিতে কম বয়সে বিয়ে, শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করা এবং পাচারের মতো সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি প্রকট হচ্ছে। অন্যদিকে মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক রেকর্ড না থাকায় পরিবারের সম্পত্তিবণ্টন ও উত্তরাধিকার নির্ধারণে জটিলতা বাড়ছে, যা পরবর্তী সময়ে পারিবারিক বিরোধে রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে দুর্গম চরাঞ্চল, পাহাড়ি জনপদ, গ্রামীণ এলাকা ও শহরের প্রান্তিক বস্তিগুলোতে এই হার উদ্বেগজনকভাবে কম।
এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট গবেষক ও পর্যবেক্ষকরা ২০০৪ সালের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইনে যুগোপযোগী পরিবর্তনের ওপর জোর দিচ্ছেন। তাঁদের মতে, কেবল পরিবার বা অভিভাবকদের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোকে সরাসরি এই নথিবদ্ধকরণের এখতিয়ার দেওয়া হলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি সম্ভব। দেশে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জন্ম নেওয়া প্রায় সাতষট্টি শতাংশ নবজাতককে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারিতে আনা গেলে তথ্যে কারসাজি বা জালিয়াতির পথ বন্ধ হবে, যা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার আওতায় সবার আইনি পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াকেও গতিশীল করবে।
দিবসটি উপলক্ষে জনস্বাস্থ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক গবেষণা সংস্থা প্রজ্ঞার শীর্ষ নির্বাহী এবিএম জুবায়ের অভিমত ব্যক্ত করেন যে, সুশাসনের মূল ভিত নির্ভর করে নির্ভুল তথ্যভাণ্ডারের ওপর। তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট আইনে পরিবর্তন এনে চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরাসরি নিবন্ধনের দায়িত্ব অর্পণ করা গেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সর্বজনীন লক্ষ্য অর্জন অনেকটাই সহজতর হবে।