দেশের সার্বিক সুশাসন জোরদার, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশের ৬৪টি জেলায় দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছে সরকার।
নতুন জারিকৃত গেজেট অনুযায়ী, সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের হুইপগণ এখন থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অনিয়ম ও মাদক প্রতিরোধসহ সার্বিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের সরাসরি মনিটরিং ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের স্বাক্ষরকৃত এই আদেশ অবিলম্বে মাঠপর্যায়ে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি আদেশে উল্লেখ করা হয়, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফেরানো এবং পূর্বে উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ নয়ছয়ের সুযোগ বন্ধ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অতীতে ভুয়া প্রকল্প বা অনিয়মের মাধ্যমে কোটি টাকা পাচার ও সামাজিক শৃঙ্খলা বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের যে অভিযোগগুলো উঠেছিল, নতুন প্রক্রিয়ায় তার সুযোগ থাকবে না। টেকসই উন্নয়ন, টেকসই প্রশাসনিক সংস্কার ও জনগণের নিকট সরকারের সার্বিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণকে প্রাধান্য দিয়ে নির্দিষ্ট জেলাভিত্তিক প্রতিনিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল ব্যক্তির জেলাভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে ইকবাল হাসান মাহমুদকে রাজশাহী ও নাটোর, ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড় এবং আবদুল আউয়াল মিন্টুকে লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। চুয়াডাঙ্গায় নিতাই রায় চৌধুরী, হবিগঞ্জে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, মৌলভীবাজারে আরিফুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রামে মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার দায়িত্বে থাকছেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
এছাড়া ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরে আসাদুল হাবিব দুলু, খুলনা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মো. আসাদুজ্জামান, ফেনী ও নোয়াখালীতে জাকারিয়া তাহের, মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং কক্সবাজারে দায়িত্ব পেয়েছেন সাচিং প্রু। টাঙ্গাইল ও নরসিংদীতে মো. শরীফুল আলম, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরে শামা ওবায়েদ ইসলাম, কুষ্টিয়া ও সংলগ্ন এলাকায় অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে আব্দুল বারী এবং রাজধানী ঢাকায় সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে বিশেষ দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পার্বত্য তিন জেলায় মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, শিল্পাঞ্চল গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে হাবিবুর রশিদ, দক্ষিণাঞ্চলের বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুরে মো. রাজীব আহসান এবং রংপুর বিভাগে মীর শাহে আলম কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। পাবনা ও সিরাজগঞ্জে ফারজানা শারমিন, যশোর অঞ্চলে শেখ ফরিদুল ইসলাম, জামালপুর ও কিশোরগঞ্জে ইয়াসের খান চৌধুরী, বরিশাল বিভাগে আহম্মদ সোহেল মনজুর এবং জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলায় দায়িত্ব পালন করবেন মোহাম্মদ শামীম কায়সার। এ ছাড়া সিলেটে আলহাজ্ব মো. জি কে গউছ, ফরিদপুর অঞ্চলে মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ এবং কুমিল্লা ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে এ. বি. এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান)-কে তদারকির দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।
গেজেটে প্রাপ্ত নির্দেশনা অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিরা স্ব-স্ব জেলার সরকারি দপ্তরগুলোর কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরাসরি পরামর্শ দেবেন। মাদক নিরোধ, চোরাচালান বন্ধ ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দারিদ্র্য বিমোচনসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সঠিক অগ্রগতি নিশ্চিতে তারা জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সভায় অংশ নিয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন।