পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। পিকনিকের কথা বলে ডেকে নিয়ে র্যাগিং করার একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতন্ত্র হলের একটি কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
হাসপাতালে ভর্তি ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাঁকে পাবনা শহরের মোজাহিদ ক্লাব এলাকার এসোর্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে গণতন্ত্র হলের ১০৩৫ নম্বর কক্ষে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন ছাত্রীকে ডেকে নেন ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে সামিহা, ঊর্মী, নিশাত, শ্রেয়া, মিম, মারিয়া, আফিয়া, ফারজানা ও ইফতি ছিলেন বলে জানা গেছে। পরে ওই কক্ষে নবীন ছাত্রীদের বিভিন্নভাবে হেনস্তা ও র্যাগিং করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে পিকনিকের কথা বলে নবীন ছাত্রীদের ওই কক্ষে নেওয়া হয়। সেখানে যাওয়ার পর পিকনিক নিয়ে কোনো আলোচনা না করে তাঁদের বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও গালাগাল করা শুরু হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মোবাইল ফোন নিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ব্যক্তিগত বিষয় নিয়েও নানা প্রশ্ন করা হয়।
র্যাগিং চলাকালে এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে অন্য একটি কক্ষে নিয়ে মাথায় পানি দেওয়া হয়। তবে এরপরও অন্য শিক্ষার্থীদের র্যাগিং চলতে থাকে। পরে আরেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থী জানান, পিকনিকের কথা বলে তাঁদের গণতন্ত্র হলের একটি কক্ষে ডাকা হয়েছিল। সেখানে যাওয়ার পর পিকনিকের বিষয়ে কোনো কথা না বলে তাঁদের ধমক দেওয়া শুরু হয়। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগও তোলা হয়।
ওই শিক্ষার্থী বলেন, তাঁকে চতুষ্পদ প্রাণীর মতো ১০ ধরনের ডাক দিতে বলা হয়। ক্যাম্পাসের লেকে কেন গেছেন, রিডিং রুমে কেন গেছেন এবং ছেলেদের সঙ্গে কেন দেখা যায়—এমন প্রশ্ন করা হয়। এমনকি কোনো ছেলেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছেন কি না, তা যাচাই করতে তাঁর মোবাইল ফোনও তল্লাশি করা হয়।
তিনি আরও জানান, একপর্যায়ে তাঁর অস্বস্তি শুরু হয়। ঘাড়ের রগ টেনে আসছিল এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। পরে তিনি শুয়ে পড়েন। এরপর কী ঘটেছে, তা আর তাঁর মনে নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী জানান, দীর্ঘ সময় র্যাগিংয়ের পর তাঁদের এক বান্ধবী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও সঙ্গে সঙ্গে যেতে দেওয়া হয়নি। এক ঘণ্টার বেশি সময় পার হওয়ার পরও তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় উপস্থিত শিক্ষার্থীদের অনেকে কান্না শুরু করেন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত সামিহা ও ঊর্মীর বক্তব্য জানতে তাঁদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি।
এদিকে অসুস্থ শিক্ষার্থীকে দেখতে হাসপাতালে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান ও ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদুল হক। এ সময় প্রক্টোরিয়াল বডি ও ছাত্র উপদেষ্টা বডির অন্য শিক্ষকেরাও হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে ওই শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে বরাবরই কঠোর অবস্থানে রয়েছে। র্যাগিং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এর আগেও একাধিকবার নবীন শিক্ষার্থীদের র্যাগিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।