মঙ্গলবার, 3 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

দিল্লিতে বিরোধী জোটের সমাবেশ ঘিরে উত্তাপ, পাল্টা মিছিল বিজেপির

ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে রাজধানী দিল্লির রামলীলা ময়দানে বড় সমাবেশ করেছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

দিল্লিতে বিরোধী জোটের সমাবেশ ঘিরে উত্তাপ, পাল্টা মিছিল বিজেপির
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে রাজধানী দিল্লির রামলীলা ময়দানে বড় সমাবেশ করেছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

অন্যদিকে, বিরোধী জোটের কর্মসূচির পাল্টা হিসেবে ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার বিচার এবং কংগ্রেসের ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে পশ্চিম দিল্লিতে মিছিল করেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দুই দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রোববার (১ নভেম্বর) দিল্লিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরজুড়ে নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা।

সকালে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে একত্র হন বিরোধী জোটের নেতারা। সেখান থেকে খোলা বাসে তাঁরা মিন্টো রোডে যান। এরপর কনট প্লেস হয়ে প্রায় চার কিলোমিটার পথ মিছিল করে রামলীলা ময়দানে পৌঁছান। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

মিছিলে অংশ নেন রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) নেতা তেজস্বী যাদবসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা। বামপন্থি দলগুলোর প্রতিনিধিরাও কর্মসূচিতে যোগ দেন। সব মিলিয়ে ২১টি বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব ছিল এ আয়োজনে।

রামলীলা ময়দানে সমবেত সমর্থকদের হাতে বিভিন্ন দলের পতাকা ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। ‘ভোট চোর, গদি ছাড়ো’ এবং ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’সহ নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সমাবেশে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বিরোধী জোটের এ আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর। বিরোধীদের অভিযোগ, গত বছর থেকে এ প্রক্রিয়ায় ১৩ কোটির বেশি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, এর মধ্যে বৈধ ভোটারদের নামও রয়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের, যার মধ্যে মুসলিম ভোটারদের সংখ্যা বেশি, তাঁদের ওপর এর প্রভাব পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছে বিরোধী জোট।

তবে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। সংস্থাটির বক্তব্য, দ্বৈত ভোটার ও অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়ার লক্ষ্যেই তালিকা সংশোধন করা হচ্ছে। যাঁদের নাম ভুলবশত বাদ পড়েছে, তাঁরা পুনরায় নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এদিকে বিরোধীদের সমাবেশের পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে পশ্চিম দিল্লির হরি নগর থেকে তিলক নগর মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত মিছিল করে বিজেপি। এতে নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। মিছিলে আরও অংশ নেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত, বিজেপির দিল্লি শাখার সভাপতি হর্ষ মালহোত্রা, মন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা, আইনজীবী এইচ এস ফুলকাসহ শিখ সম্প্রদায়ের নেতারা।

মিছিল থেকে কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী সহিংসতার ঘটনায় কংগ্রেসকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়।

হরদীপ সিং পুরী বলেন, ১৯৮৪ সালে দিল্লিতে ২ হাজার ৭৩৩ জন শিখ নিহত হয়েছিলেন। তাঁর ভাষায়, ওই ঘটনা কোনো আকস্মিক দাঙ্গা ছিল না; বরং এটি ছিল পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তও ওই সহিংসতার স্মৃতি তুলে ধরে কংগ্রেসের সমাবেশের সময় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিজেপির অভিযোগ, ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর ইন্দিরা গান্ধী হত্যাকাণ্ডের পর শুরু হওয়া শিখবিরোধী সহিংসতার বার্ষিকীতে সমাবেশ আয়োজন করে কংগ্রেস শিখ সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত করেছে।

কংগ্রেসের সমাবেশকে ‘পরিকল্পিত নাটক’ বলে মন্তব্য করেছেন বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা। তাঁর অভিযোগ, গণতন্ত্রের কথা বলে বিরোধীরা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, সমাবেশের পক্ষে অবস্থান নিয়ে রাহুল গান্ধী বলেছেন, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

দুই দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে চার হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে বসানো হয় দুই শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা এবং মোতায়েন করা হয় ড্রোন। রামলীলা ময়দানকে ভাগ করা হয়েছিল ১৪টি নিরাপত্তা জোনে।