শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ও লেখালিখির যৌথ আয়োজনে ‘Beyond the Screen: ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউশনের কৌশল’ শীর্ষক কর্মশালা

সিনেমা বানালেই কাজ শেষ হয়ে যায় না। নির্মাণের পর সেটি কীভাবে দর্শকের কাছে পৌঁছাবে, কোন হলে প্রদর্শিত হবে, কীভাবে প্রচার হবে এবং বাণিজ্যিকভাবে কতটা সফল হবে—এসব বিষয়ও একটি চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। চলচ্চিত্রের এই নির্মাণ-পরবর্তী যাত্রা নিয়ে নির্মাতা, প্রযোজক ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের বাস্তব ধারণা দিতে আয়োজন করা হয়েছে দিনব্যাপী কর্মশালা ‘Beyond the Screen: ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউশনের কৌশল’।

বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ও লেখালিখির যৌথ আয়োজনে ‘Beyond the Screen: ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউশনের কৌশল’ শীর্ষক কর্মশালা

সিনেমা বানালেই কাজ শেষ হয়ে যায় না। নির্মাণের পর সেটি কীভাবে দর্শকের কাছে পৌঁছাবে, কোন হলে প্রদর্শিত হবে, কীভাবে প্রচার হবে এবং বাণিজ্যিকভাবে কতটা সফল হবে—এসব বিষয়ও একটি চলচ্চিত্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। চলচ্চিত্রের এই নির্মাণ-পরবর্তী যাত্রা নিয়ে নির্মাতা, প্রযোজক ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের বাস্তব ধারণা দিতে আয়োজন করা হয়েছে দিনব্যাপী কর্মশালা ‘Beyond the Screen: ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউশনের কৌশল’।

বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ও লেখালিখির যৌথ আয়োজনে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে অনুষ্ঠিত হয় কর্মশালাটি। এতে মেন্টর হিসেবে ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা তপু খান। শাকিব খান অভিনীত ‘আমিই বাংলাদেশ’ চলচ্চিত্রের এই পরিচালক তাঁর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে চলচ্চিত্র নির্মাণের পরের ধাপগুলো নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বলেন।

আলোচনায় উঠে আসে চলচ্চিত্রের পোস্ট-প্রডাকশন, ডিস্ট্রিবিউটরের দায়িত্ব, সিনেমা হল নির্বাচন ও বুকিং, প্রযোজক-পরিবেশক-প্রদর্শকের সম্পর্ক, চলচ্চিত্রের প্রচার, দর্শক তৈরি, আয় ভাগাভাগি এবং সিনেমার বাণিজ্যিক অবস্থান নির্ধারণের মতো বিষয়।

কর্মশালার বিশেষ একটি পর্বে ‘সিনেমা পরিবেশনা ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক’ নিয়ে কথা বলেন লেখালিখির উদ্যোক্তা সৈয়দা ফারজানা জামান রুম্পা। সিনেমা নির্মাণ থেকে শুরু করে দর্শকের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ভালো যোগাযোগ ও ব্যবসায়িক সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।

কর্মশালায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় ঢাকার বাইরে চলচ্চিত্রের দর্শক ও বাজার তৈরির বিষয়টিতে। আলোচনায় বলা হয়, সিনেমার দর্শক শুধু রাজধানী বা বড় শহরেই নেই। দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলেও সিনেমার সম্ভাবনাময় দর্শক রয়েছে। তাই একটি চলচ্চিত্র ভালোভাবে নির্মাণের পাশাপাশি সেটিকে সঠিক পরিকল্পনায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়াও জরুরি।

চলচ্চিত্র পরিবেশনায় নৈতিকতার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। স্বচ্ছভাবে রাজস্ব ভাগাভাগি, সঠিক বক্স অফিস হিসাব, ন্যায্যভাবে সিনেমা হলের স্ক্রিন বরাদ্দ, দর্শকের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং কপিরাইট ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অনুমোদিত সংস্করণ ছাড়া কোনো চলচ্চিত্র প্রদর্শন না করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক জনাব ম. জাভেদ ইকবাল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের পরিচালক ফারহানা রহমান এবং প্রকল্প পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আলী সরকার।

এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন টেকনোলজি (BUFT) এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।

দিনব্যাপী কর্মশালার শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়।

আয়োজকদের মতে, দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে এগিয়ে নিতে শুধু সিনেমা নির্মাণের দিকে নজর দিলেই হবে না। একটি চলচ্চিত্র দর্শকের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত পোস্ট-প্রডাকশন, প্রচার, ডিস্ট্রিবিউশন ও প্রদর্শনের প্রতিটি ধাপকে গুরুত্ব দিতে হবে।

নতুন ও সম্ভাবনাময় নির্মাতা, প্রযোজক এবং চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউশন, বাজার ও নির্মাণ-পরবর্তী কাজ সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দেওয়াই ছিল ‘Beyond the Screen: ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউশনের কৌশল’ কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য।