রবিবার, 8 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

সিআইডি কার্যালয় ও পল্লবী থানায় ককটেল নিক্ষেপ, ঢাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

রাজধানীর মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান কার্যালয়ের ভেতরে এবং পল্লবী থানার মূল ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৮ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে পৃথক এ ঘটনা ঘটে। এর আগে সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে আট থেকে নয়টি ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।

সিআইডি কার্যালয় ও পল্লবী থানায় ককটেল নিক্ষেপ, ঢাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান কার্যালয়ের ভেতরে এবং পল্লবী থানার মূল ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৮ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে পৃথক এ ঘটনা ঘটে। এর আগে সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে আট থেকে নয়টি ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।

এ ছাড়া শনিবার রাত ১০টা থেকে রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় ২০ ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীর মিরপুর, মহাখালী ও ভাটারা এলাকায় তিনটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ বলছে, জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে ধারাবাহিকভাবে হাতবোমা বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানিয়ে জোরালো নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের কাছে চিঠি দিয়েছে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।

সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়ে পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম বলেন, রাত সাড়ে ৭টার দিকে মালিবাগ মোড়ের কাছে উড়ালসড়ক থেকে সিআইডি কার্যালয় লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। কার্যালয়ের ভেতরে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। তবে এতে কেউ হতাহত হননি।

পল্লবী থানার ওসি জালাল উদ্দিন জানান, উড়ালসড়ক থেকে নিক্ষেপ করা একটি ককটেল থানার মূল ফটকের সামনে বিস্ফোরিত হয়েছে।

এর আগে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ভাটারা থানার ১০০ ফিট সড়কে পার্কিং করে রাখা জলসিঁড়ি ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। স্কুলের পরিবহন শাখার কর্মকর্তাদের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা বাসটিতে আগুন দিয়েছে।

এর আগের রাতে মিরপুর-১২ নম্বরে পল্লবী মেট্রো স্টেশনের নিচে একটি বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পল্লবী থানার ওসি মো. জালাল উদ্দিন বলেন, মোটরসাইকেলে করে আসা দুর্বৃত্তরা বাসের জানালা দিয়ে ভেতরে পেট্রল ছিটিয়ে আগুন ধরানোর চেষ্টা করে। তবে বাসের কর্মীরা দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলেন। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।

শনিবার দিবাগত গভীর রাতে মহাখালী এলাকায় পার্কিং করে রাখা সোহাগ পরিবহনের একটি বাসেও আগুন দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুলিশ সূত্র জানায়, শনিবার রাতে যাত্রাবাড়ী থানা, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বনানী থানার মহাখালী এলাকায়ও একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের বিদেশে অবস্থানরত নেতা-কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করছেন। দেশে আত্মগোপনে থাকা নেতা-কর্মীরা এসব কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাড়িতে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ সোমবার দেশব্যাপী ধর্মঘটের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নাশকতার ঘটনা ঘটছে বলে সূত্রটির দাবি।

ঢাকায় ধারাবাহিক হাতবোমা বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার পেছনে নাশকতা এবং জনমনে আতঙ্ক তৈরির উদ্দেশ্য দেখছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এসব ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

রোববার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) আকতার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওই গ্রুপটি নাশকতার উদ্দেশ্যে ও জনমনে আতঙ্ক তৈরি করতে কাজগুলো করছে।’ তিনি জানান, প্রতিটি ঘটনা পুলিশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন এবং একটি দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সদস্য রয়েছেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তদন্তের সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির বিভিন্ন ধরনের মোবাইল টিম কাজ করছে।

পরিবহনমালিকদের উদ্বেগ

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। গত ৬ ও ৭ নভেম্বর ঢাকা ও আন্তজেলা রুটের ছয়টি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।

এ বিষয়ে রোববার আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের কাছে চিঠি দিয়েছে সমিতি। চিঠিতে বলা হয়েছে, দুর্বৃত্তরা ঢাকাসহ সারা দেশে চলাচলকারী যানবাহনে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। এতে গাড়ির মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সোমবার ডিএমপি কার্যালয়ে পরিবহনমালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে পুলিশের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।