ইয়েমেনের রাজধানী সানায় একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সময়ে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় হুতি অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও কামানের গোলাবর্ষণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী। তাদের দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় হুতিদের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০০টি সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে।
ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আব্দুল্লাহ আল-নাজিলি শনিবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, সানার ‘বৈধ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্যস্থলগুলোতে’ ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে। নাজিলির দাবি, তারা ‘হুতিদের বিরুদ্ধে কৌশলগত আক্রমণ চালাতে সক্ষম’।
এর আগে নাজিলি জানিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী গত ২৪ ঘণ্টায় হুতিদের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০০টি সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানে ১ হাজার ৫৪০ জন হুতি যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নাজিলি জানান, হতাহতদের বেশিরভাগই তায়িজ প্রদেশের। সেখানে সরকারি বাহিনী হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকিয়ে দিয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকা তায়িজ শহর নতুন করে শুরু হওয়া লড়াইয়ের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। তবে এই সংঘর্ষে সরকারি বাহিনীর কতজন হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে নাজিলি কোনো তথ্য দেননি।
তায়িজ থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি জানান, শহরের আশপাশের কয়েকটি এলাকায় সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষ হচ্ছে শহরের পশ্চিমাংশের উপকণ্ঠে।
হুতিরা হামলার সময় অস্বাভাবিক মাত্রায় ভারী গোলাবর্ষণ করছে বলেও জানান তিনি। বিশেষ করে শহরের পশ্চিমাঞ্চল লক্ষ্য করে তারা একটানা কামানের গোলা ছুড়ছে।
এসব সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। শহরের ধুবাব আবাসিক এলাকায় একটি গোলার আঘাতে এক নবজাতক নিহত হয়েছে। অব্যাহত গোলাবর্ষণের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
আল জাজিরার প্রতিনিধি আরও জানান, শুক্রবার সামিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রের পার্বত্য এলাকায় হুতিরা কিছুটা অগ্রগতি অর্জন করেছে। শনিবার সেখানে হুতি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে।
ঘটনাস্থলের কয়েকটি সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে, সামিয়ার বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এত বড় মাত্রায় ওই এলাকার মানুষকে সরে যেতে দেখা যায়নি।