হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকায় শাশুড়িকে নৃশংসে কুপিয়ে হত্যার অপরাধে জামাতা মো. আব্দুল কাদিরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে বিচারিক আদালত।
একই সাথে তাকে ১০ হাজার টাকার অর্থদণ্ড এবং তা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের অতিরিক্ত কারাবাসের আদেশ প্রদান করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক কাঁকন দে এই সাজা ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামি মো. আব্দুল কাদির মিয়া চুনারুঘাট উপজেলার টেকারঘাট এলাকার প্রয়াত রেজ্জাক মিয়ার সন্তান। রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি অনুপস্থিত ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন আদালতের স্টেনোগ্রাফার মো. মুখলেছুর রহমান।
নথিপত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, কাদির মিয়ার প্রবাসী স্ত্রী বীনা সরকারের পাঠানো অর্থ সংক্রান্ত লেনদেন নিয়ে শাশুড়ির সাথে দীর্ঘদিন দ্বন্দ চলছিল। ওই ক্ষোভের জেরে ২০১২ সালের ৬ মার্চ দুপুরে দুধপাতিল গ্রামে অবস্থিত শ্বশুরবাড়ির রান্নাঘরে ঢুকে শাশুড়ি হাজেরা খাতুন ওরফে মুল্লুক চানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে অভিযুক্ত কাদির।
উক্ত ঘটনায় নিহতের সন্তান মো. মনির সরকার বাদী হয়ে কাদির মিয়াকে একক আসামি শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করে চুনারুঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ৮ মে প্রাথমিক তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। বিচার প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপন করা ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা পর্যালোচনা শেষে আদালত এই সিদ্ধান্ত প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনাকারী অতিরিক্ত পিপি মো. আফজাল হোসেন জানান, আনীত অভিযোগসমূহ বিচারপীঠে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রুখতে কৌঁসুলি বিভাগ সর্বদাই সচেষ্ট ভূমিকা পালন করবে।