পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনায় বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক ফলাফলে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসকে বড় ব্যবধানে পেছনে ফেলে জয়ের পথে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৪৮টি আসনের লক্ষ্যমাত্রা ইতিমধ্যে পার করার পথে রয়েছে দলটি।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষিত ১৫৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি ১০৬টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে। বিপরীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস জয় পেয়েছে ৪৪টি আসনে। এছাড়া কংগ্রেস ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টি ২টি করে আসনে জয়লাভ করেছে। জয়ের পাশাপাশি এখনো গণনারত আসনগুলোর মধ্যে বিজেপি আরও ১০০টি আসনে লিড দিচ্ছে, যেখানে তৃণমূল এগিয়ে আছে মাত্র ৩৭টি আসনে। ফলে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি রাজ্য ক্ষমতায় আসার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
২০১১ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হঠাতে এবারের নির্বাচনে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিল বিজেপি। এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী মন্তব্য করেছেন যে, এই ফলাফল ভারতের জাতীয় রাজনীতির ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। তবে নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংস্কারের ফলে বহু মানুষ ভোটাধিকার হারানোয় বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে সমালোচনাও করা হয়েছে।
বিপর্যয়ের মুখেও দমে না গিয়ে দলীয় নেতা-কর্মী ও এজেন্টদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সবাইকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং কাউকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। গণনার আগে তিনি তৃণমূলের জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করলেও বর্তমান সমীকরণ বিজেপির পক্ষেই কথা বলছে। এদিকে প্রাথমিক এই বড় জয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।