তিন দশকেরও বেশি সময় পূর্বের সর্বনিম্ন স্তরে ঠেকেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত জ্বালানি তেলের সঞ্চয়। টানা দুই সপ্তাহ ধরে ধারাবাহিকভাবে জোগান হ্রাস পাওয়ায় ১৯৮৩ সালের পর এই প্রথম দেশটির কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ বা এসপিআর ঐতিহাসিক নিম্নভাগে পৌঁছাল।
মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে রয়টার্স প্রকাশ করেছে যে, বিগত সপ্তাহে দেশটির আপদকালীন খনিজ তেল সঞ্চয় কেন্দ্রগুলো থেকে প্রায় ৫১ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কমে দাঁড়িয়েছে ৩১ কোটি ১৪ লাখ ব্যারেলে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিগত চার দশকের ইতিহাসে এটিই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বনিম্ন তেল সঞ্চয়ের চিত্র।
সংবাদসূত্রে জানা যায়, ফেব্রুয়ারির শেষভাগে ইরান ঘিরে মার্কিন ও ইসরায়েলি ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র রূপ ধারণ করার পর থেকেই আমেরিকার আপদকালীন জ্বালানি ভাণ্ডার দ্রুত খালি হতে শুরু করে। সেই সময় থেকে এ পর্যন্ত কৌশলগত তেল ভাণ্ডার থেকে ১০ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি জ্বালানি উত্তোলন করা হয়েছে। মূলত বিশ্বজুড়ে জরুরি সংকট মোকাবিলার বৈশ্বিক কর্মসূচির অধীন সব মিলিয়ে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে ওয়াশিংটন।
ইরান সম্পর্কিত বিরোধের জের ধরে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ প্রণালি হরমুজে বাণিজ্যিক জলযান চলাচল ও তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা বা আইইএ-এর শরিক রাষ্ট্রগুলোর যৌথ সমঝোতায় মার্কিন প্রশাসন এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ সহজ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী, গৃহীত পরিকল্পনার আওতায় এ যাবৎ প্রায় ১৩ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলনের ছাড়পত্র দেয়া সম্পন্ন হয়েছে।
আইইএ নির্ধারিত উদ্যোগের পাশাপাশি দেশটির সামগ্রিক ব্যবসায়িক ও আপদকালীন তেলের সম্মিলন হিসাব করলে ১০ জুলাই পর্যন্ত যৌথ সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭২ কোটি ৬২ লাখ ব্যারেলে, যা ১৯৮৪ সালের পর সর্বনিম্ন রেকর্ড। এদিকে ১৭ জুলাই সমাপ্ত সপ্তাহের হালনাগাদ পরিসংখ্যান চলতি সপ্তাহের বুধবারে প্রকাশের কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, সত্তরের দশকে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া আকস্মিক জ্বালানি সংকটের পর নিজেদের বাজার ও নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে এই বিশাল ভূগর্ভস্থ কৌশলগত ভাণ্ডার গড়ে তুলেছিল যুক্তরাষ্ট্র। মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিগতভাবে তৈরি ভূগর্ভস্থ লবণ গুহাগুলোতে সংরক্ষিত এই তেলের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা প্রায় ৭১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল।