শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

২০৩০ বিশ্বকাপে ৬৪ দলের প্রস্তাব খতিয়ে দেখবে ফিফা

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা আরও বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের পর এবার ২০৩০ আসরে ৬৪ দল রাখার প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে বিবেচনার ঘোষণা দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে এ পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই ইউরোপীয় ফুটবল মহলের একাংশের বিরোধিতার মুখে পড়েছে।

২০৩০ বিশ্বকাপে ৬৪ দলের প্রস্তাব খতিয়ে দেখবে ফিফা

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা আরও বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের পর এবার ২০৩০ আসরে ৬৪ দল রাখার প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে বিবেচনার ঘোষণা দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে এ পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই ইউরোপীয় ফুটবল মহলের একাংশের বিরোধিতার মুখে পড়েছে।

সুইস সংবাদমাধ্যম ব্লুউইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো বলেন, '৬৪ দলের বিশ্বকাপ অবশ্যই এমন একটি বিষয়, যা এই বিশ্বকাপের পর সংশ্লিষ্ট কমিটিতে পরীক্ষা ও আলোচনা করা হবে।'

তার মতে, বিশ্বকাপ কেবল ইউরোপ বা দক্ষিণ আমেরিকার জন্য নয়; এটি পুরো বিশ্বের প্রতিযোগিতা। তাই আরও বেশি দেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে বৈশ্বিক পর্যায়ে ফুটবলের মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তিনি বলেন, 'প্রত্যেক দেশেরই বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখার সুযোগ থাকা উচিত। ছোট দেশগুলোকে সুযোগ না দিলে উন্নতির প্রেরণাও কমে যাবে,' বলেন ইনফান্তিনো।

৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের ধারণাটি প্রথম সামনে আনেন উরুগুয়ের ফুটবল কর্মকর্তা ইগনাসিও আলোনসো। পরে ২০২৫ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবলের সভাপতি আলেহান্দ্রো ডোমিঙ্গেজও এটিকে নিজের "স্বপ্ন" বলে উল্লেখ করেন।

তাদের যুক্তি, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ হবে টুর্নামেন্টটির শতবর্ষের আসর। তাই আরও বেশি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করে এই আসরকে প্রকৃত অর্থেই বৈশ্বিক ফুটবল উৎসবে পরিণত করা উচিত।

বর্তমান সূচি অনুযায়ী ২০৩০ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে ছয়টি দেশে। উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজন করবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে। এরপর মূল পর্বের বাকি ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে মরক্কো, স্পেন ও পর্তুগালে।

দলসংখ্যা ৬৪-তে উন্নীত হলে দক্ষিণ আমেরিকার এই তিন দেশ শুধু উদ্বোধনী ম্যাচ নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ গ্রুপ পর্ব আয়োজনের সুযোগও পেতে পারে।

তবে এই প্রস্তাব নিয়ে আপত্তিও রয়েছে। উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্ডার সেফেরিন এটিকে 'খারাপ ধারণা' বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, এতে বিশ্বকাপের প্রতিযোগিতার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ইউরোপীয় অঞ্চলের বাছাইপর্বের গুরুত্বও কমে যাবে।

একই ধরনের মত দিয়েছেন কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তালিয়ানি। তার ভাষায়, 'এটি মোটেও ভালো ধারণা নয়।'

সমালোচকদের মতে, ৬৪ দলের বিশ্বকাপ হলে ফিফার ২১০ সদস্য দেশের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি দল মূল পর্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। এতে বিভিন্ন অঞ্চলের বাছাইপর্বের প্রতিযোগিতামূলক গুরুত্ব কমে যেতে পারে।

বর্তমানে ৪৮ দলের বিশ্বকাপ ব্যবস্থায় দক্ষিণ আমেরিকার ১০টি দেশের মধ্যে ছয়টি সরাসরি এবং একটি প্লে-অফের মাধ্যমে বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এদিকে ইনফান্তিনো ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনকে 'শতভাগ সফল' বলে দাবি করেছেন।

তবে ঘানার সাবেক কোচ কার্লোস কুইরোজসহ কয়েকজন কোচের মতে, দলসংখ্যা বাড়ানোর ফলে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার মর্যাদা আগের তুলনায় কিছুটা কমে গেছে এবং প্রতিযোগিতাটি আগের মতো এক্সক্লুসিভ নেই।