সোমবার, 21 সেপ্টেম্বর 2026
সকল বিভাগ

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ২২ বছর আজ

রাজনৈতিক ইতিহাসের ভয়াবহ এক অধ্যায়ের ২২ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার সমাবেশে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে (বর্তমানে শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউ) ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ২২ বছর আজ

রাজনৈতিক ইতিহাসের ভয়াবহ এক অধ্যায়ের ২২ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার সমাবেশে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে (বর্তমানে শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউ) ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকেলে আওয়ামী লীগের ওই সমাবেশে পরপর কয়েকটি গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা। তিনি হামলায় আহত হলেও প্রাণে রক্ষা পান।

ঘটনার পর মতিঝিল থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা করা হয়। শুরু থেকেই এসব মামলার তদন্তের ধরন নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক দেখা দেয়।

২০০৭ সালে এক-এগারোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মামলাগুলোর তদন্ত নতুন করে শুরু হয়। পরের বছর ২০০৮ সালে সিআইডি পৃথক দুটি অভিযোগপত্রে ২২ জনকে আসামি করে। এরপর ২০১১ সালের ৩ জুলাই দেওয়া সম্পূরক অভিযোগপত্রে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ আরও ৩০ জনকে আসামি করা হয়।

দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ দুই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ আরও ১৯ জনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। এ ছাড়া ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

তবে পরে ওই রায় বাতিল হয়ে যায়। ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট দুই মামলার রায় বাতিল করে সব আসামিকে খালাস দেন। একই সঙ্গে সম্পূরক অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে পরিচালিত বিচারকে অবৈধ ঘোষণা করেন আদালত।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলেও ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দেন। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বিভাগ সর্বসম্মতভাবে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন।

আপিল বিভাগ বলেন, তথ্যপ্রমাণ, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয় পর্যালোচনায় হাইকোর্টের রায়ে কোনো দুর্বলতা বা বেআইনি বিষয় পাওয়া যায়নি।

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে ২১ আগস্টের হামলার সুষ্ঠু ও স্বাধীন তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছিল। তবে আপিল বিভাগ ওই পর্যবেক্ষণ প্রত্যাহার করে দেন। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আদেশের অনুলিপি পাঠানোর নির্দেশনাও বাতিল করা হয়।

দুই দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ২১ আগস্টের সেই গ্রেনেড হামলা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ সহিংসতার স্মৃতি হয়ে রয়েছে।