শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় বিস্ফোরণের পর আগুন, নিহত বেড়ে ৭

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের পর কারখানা এলাকায় পরপর বেশ কয়েকটি বিকট শব্দ শোনা যায়। দূর থেকেও আগুনের কুণ্ডলি দেখা যাচ্ছিল। কারখানার ভেতরে তিনটি কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস সিলিন্ডার রাখা ছিল।

আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় বিস্ফোরণের পর আগুন, নিহত বেড়ে ৭

সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৬ জন। রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে জামগড়া এলাকার এস সুহি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ভেতরে প্রীতি গ্রুপের একটি কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ঢাকা-৪-এর উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান রাতে ছয়জন নিহত হওয়ার তথ্য জানান। তিনি বলেন, “কাভার্ড ভ্যান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার আনলোড করার সময় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে গ্যাস সিলিন্ডারের আঘাতে কারখানার বাইরে এক নারী এবং কাভার্ড ভ্যানের ভিতরে আরও পাঁচজনের লাশ পাওয়া যায়।”

তবে নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।

এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে গুরুতর চারজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় নজরুল ইসলাম (৩৫) নামে এক সবজি ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। বাকি তিনজনের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আহত অন্য তিনজন হলেন মোখলেছুর রহমান (৪৫), তাঁর ছেলে সুজন মিয়া (১৮) ও নুরুল ইসলাম (৪০)।

আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকার নারী ও শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশিদ বলেন, “প্রীতি গ্রুপে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আমাদের হাসপাতালে ১৬ জনকে আনা হয়েছে। এদের মধ্যে চারজনের অবস্থা সংকটা পূর্ণ হওয়ায় তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের পর কারখানা এলাকায় পরপর বেশ কয়েকটি বিকট শব্দ শোনা যায়। দূর থেকেও আগুনের কুণ্ডলি দেখা যাচ্ছিল। কারখানার ভেতরে তিনটি কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস সিলিন্ডার রাখা ছিল।

বিস্ফোরণের শব্দে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কারখানার জানালা-দরজার কাচ ভেঙে পড়ে। জীবন বাঁচাতে শ্রমিকেরা একযোগে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে একের পর এক বিস্ফোরণের কারণে অনেকে সামনে এগোতে পারেননি।

তৈরি পোশাক কারখানার ফিনিশিং বিভাগের মাননিয়ন্ত্রণ শাখার পরিদর্শক রাকিব হোসেন বলেন, কাজ শেষ করার দিকে হঠাৎ গ্যাস লিকেজের শব্দ শুনতে পান তিনি। এর কিছুক্ষণ পর বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন।

ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, ডিইপিজেড, জিরাবো মডার্ন ফায়ার স্টেশনসহ ছয়টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর রাত পৌনে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করেন।

ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর সোমেন বড়ুয়া বলেন, গার্মেন্টস চত্বরে বড় কাভার্ড ভ্যান থেকে গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার আনলোডের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাবুদ্দিন বলেন, “আমরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসেছি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”