বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া অমুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়েছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আজম খান।
রোববার জাতীয় সংসদে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মালিকের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত পরিচালিত বিশেষ তদন্ত ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সারা দেশে ৪৮১ জন ব্যক্তির মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল করা হয়েছে।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গত ১৫ বছর ধরে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা অবহেলার শিকার হয়েছেন, অন্যদিকে অনেক সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি অসত্য তথ্য প্রদান করে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা হাতিয়ে নিয়েছেন। বিশেষ করে সিলেটের বালাগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমার মতো অঞ্চলগুলোতে এই ধরনের অনিয়মের প্রভাব বেশি দেখা গেছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন যে, বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান এবং 'ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা' বলে বাস্তবে কিছু নেই; মূলত কিছু অসাধু লোক অনৈতিকভাবে তালিকায় প্রবেশ করেছে।
এই চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়াকে একটি চলমান কার্যক্রম হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) উপকমিটি প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত শুনানি ও তথ্য যাচাই করছে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ামাত্রই সংশ্লিষ্টদের সনদ ও গেজেট বাতিল করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যারা প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও প্রবাসে অবস্থানের কারণে এখনো ডিজিটাল সনদ বা স্মার্ট আইডি কার্ড সংগ্রহ করতে পারেননি, তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে দ্রুততম সময়ে তা প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
পরিশেষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আজম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত সম্মান ফিরিয়ে দিতে এবং তাদের পাওনা সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। কোনো অপশক্তির মাধ্যমেই যেন প্রকৃত ত্যাগীদের অধিকার ক্ষুণ্ণ না হয়, সেদিকে সরকার কড়া নজরদারি রাখছে।