সারাদেশে কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে আকস্মিক বজ্রপাতে পৃথক স্থানে ১২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। শনিবার দুপুরে দেশের উত্তরাঞ্চলসহ ৬টি জেলায় এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো ঘটে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ পাঁচজন এবং রংপুর ও ময়মনসিংহে দুইজন করে মারা গেছেন। এছাড়া কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জে একজন করে নিহতের খবর পাওয়া গেছে।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও দিরাই উপজেলার বিভিন্ন হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রাঘাতে পাঁচজন কৃষক প্রাণ হারান। নিহতরা হলেন ধর্মপাশার হাবিবুর রহমান ও রহমত উল্লা, জামালগঞ্জের নাজমুল হোসেন, তাহিরপুরের আবুল কালাম এবং দিরাইয়ের লিটন মিয়া। সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাওরে কাজ করার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তারা ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ছোট শালমারা বিলে মাছ ধরার সময় বজ্রাঘাতে মিলন রায় ও আবু তালেব নামের দুই জেলের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আরও সাতজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের উদ্ধার করে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ময়মনসিংহের গৌরীপুর ও গফরগাঁওয়ে বজ্রপাতে দুই ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। গৌরীপুরের কোনাপাড়া গ্রামে রহমত আলী উজ্জ্বল নামে এক মুদি দোকানি এবং গফরগাঁওয়ের উস্থি ইউনিয়নে মমতাজ আলী খান নামের এক ব্যক্তি মারা যান। মমতাজ আলী নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রাঘাতের শিকার হন।
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বড় হাওরে ধান কাটার সময় হলুদ মিয়া নামের এক কৃষক বজ্রপাতে নিহত হন। উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, বৃষ্টির সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। নেত্রকোনার আটপাড়ায় গরুর ঘাস কাটতে গিয়ে আলতু মিয়া নামের এক বৃদ্ধ কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে মমিনা হাওরে কাজ করার সময় সুনাম উদ্দিন নামের এক ষাটোর্ধ্ব কৃষকের মৃত্যু হয়। দুপুরে বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত শুরু হলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং মাঠেই তার মৃত্যু ঘটে। দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ১২ জনের অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবারগুলোকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সহায়তা করার কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।