বৃহস্পতিবার, 29 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রকে মানুষের ভরসার জায়গায় নিয়ে যেতে চাই : আইনমন্ত্রী

বর্তমানে সারা দেশে অনিষ্পন্ন মামলার সংখ্যা ৪৬ লাখ ছাড়িয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, বিশাল এই স্তূপ সামলাতে গিয়ে বিচারকদের ওপর অকল্পনীয় চাপ তৈরি হচ্ছে।

ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রকে মানুষের ভরসার জায়গায় নিয়ে যেতে চাই : আইনমন্ত্রী
দেশের বিচারিক কার্যক্রমকে সাধারণ মানুষের চূড়ান্ত আস্থা ও নির্ভরতার স্থান হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ই-পারিবারিক আপিল আদালতের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এই মনোভাব প্রকাশ করেন। বর্তমান বিচার ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন ও বিচারকদের দায়িত্ব পালনে আরও বেশি আন্তরিক হওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

বর্তমানে সারা দেশে অনিষ্পন্ন মামলার সংখ্যা ছেচল্লিশ লাখ ছাড়িয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, বিশাল এই স্তূপ সামলাতে গিয়ে বিচারকদের ওপর অকল্পনীয় চাপ তৈরি হচ্ছে। এই চাপ প্রশমিত করতে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তবে বিচারিক কার্যক্রমে গাফিলতির বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মন্ত্রী বলেন, কিছু বিচারক বেলা এগারোটায় এজলাসে উঠে দুপুর দেড়টা বা দুটোর মধ্যেই কাজ শেষ করে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। এমন দায়িত্বহীন ও আরামপ্রিয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও কাঠামোগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।

আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে বিচার ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের তাগিদ দেন আইনমন্ত্রী। তিনি মনে করেন, ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে হলে ডিজিটাল খাতে পারদর্শিতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্মের তরুণ বিচারকরা প্রযুক্তিগত দিক থেকে অনেক বেশি দক্ষ হওয়ায় তারা সহজেই এসব অত্যাধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিচার বিভাগকে আরও যুগোপযোগী করে তুলতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রযুক্তির সফল প্রয়োগের উদাহরণ টানতে গিয়ে তিনি ই-বেইল বন্ড বা ইলেকট্রনিক জামিন ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন, যার সুফল ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষ পেতে শুরু করেছে। এছাড়া ডিজিটাল মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণ ও হাজিরা নিশ্চিত করার আইনি কাঠামোর আওতায় আরও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বেশ কয়েকজন আসামির ক্ষেত্রে ডিজিটাল হাজিরার সফল প্রয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, এর মাধ্যমে আসামিরা কারাগার থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সহায়তায় আদালতে সরাসরি উপস্থিত না হয়েও নিজেদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারছেন।