রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পদত্যাগের কারণে শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও-এক সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে আজ বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
তবে এই নির্বাচনী কর্মযজ্ঞের নিরপেক্ষতা ও সার্বিক পরিবেশ নিয়ে আগেই শঙ্কা প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন এগারো দলীয় ঐক্যজোট। গত বুধবার দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ নিজেদের এই উদ্বেগের কথা জানান। নির্বাচনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের প্রার্থী মাঠে অবস্থান করবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, তারা মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্যই নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তবে ভোটের দিনের বাস্তব পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেই তারা তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
জামায়াতের উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, তারা কোনো পক্ষের অভিযোগকেই খাটো করে দেখছেন না এবং এ বিষয়ে রক্ষণাত্মক অবস্থানও নিতে চান না। তবে নির্বাচন কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত উদ্বেগজনক কোনো পরিস্থিতি তাদের নজরে আসেনি এবং ভবিষ্যতেও এমন কিছু ঘটবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এদিকে একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে পুরো নির্বাচনী এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি একুশ প্লাটুন বিজিবি, দুই হাজার দুইশ বাহাত্তর জন পুলিশ, দুই হাজার চারশ পাঁচ জন আনসার এবং আড়াই শতাধিক এসআরবি সদস্যকে পাহারায় রাখা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনী বিধিমালা নিশ্চিতে মাঠে টহল দিচ্ছেন নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরা।
ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া এবং ভুল্লী উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত এই নির্বাচনী সীমানায় মোট ভোটারের সংখ্যা পাঁচ লাখ ষোল হাজার একশ উনচল্লিশ জন। এর মধ্যে নারী ও পুরুষ ভোটারের হার প্রায় সমান এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন চারজন। আজ মোট একশ পঁচাশিটি কেন্দ্রের নয়শ ঊননব্বইটি ভোটকক্ষে তিন হাজার একশ বাহান্ন জন কর্মকর্তা নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া এবার ডাকযোগে বা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য আবেদনকারীদের মধ্য থেকে উনত্রিশ জন প্রবাসীসহ মোট দুইশ ঊননব্বই জনের আবেদন গ্রহণ করেছে কমিশন।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে এই আসন থেকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জয়লাভ করলেও গত আগস্টে তিনি রাষ্ট্রপতির চেয়ারে বসার পর আসনটি শূন্য ঘোষণা করে তফসিল দেওয়া হয়। আজকের এই উপনির্বাচনে মূল লড়াইয়ে রয়েছেন ধানের শীষের কাণ্ডারি বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী জামায়াতের মো. দেলাওয়ার হোসেন। তাদের পাশাপাশি ভোটের মাঠে নিজেদের ভাগ্য পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছেন বটগাছ প্রতীকে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী, হাতপাখা নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম এবং ডাব প্রতীকে বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।