বৃহস্পতিবার, 22 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

টানা ২ মাস কমল মূল্যস্ফীতি, আগস্টে ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন ৮.২৬ শতাংশ

টানা ২ মাস কমল মূল্যস্ফীতি, আগস্টে ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন ৮.২৬ শতাংশ
ছবি: সংগৃহীত

টানা দ্বিতীয় মাসের মতো আগস্টেও দেশে মূল্যস্ফীতির হার কমেছে। এ মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি নেমে এসেছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে, যা গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। জুলাইয়ে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। সংস্থাটির হিসাবে, আগস্টে খাদ্যপণ্যের দাম কমার প্রভাবে খাদ্য মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে মূল্যস্ফীতি সামান্য বেড়েছে।

খাদ্যপণ্যে স্বস্তি, বাড়ল খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি

আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। জুলাইয়ে এ হার ছিল ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি আগস্টে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশে, যা জুলাইয়ে ছিল ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ।

পয়েন্ট টু পয়েন্ট হিসাবে আগস্টে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতির অর্থ হলো, গত বছরের একই সময়ে কোনো পণ্য বা সেবা কিনতে ১০০ টাকা খরচ হলে এবার আগস্টে সেটির জন্য গড়ে ১০৮ টাকা ২৬ পয়সা খরচ করতে হয়েছে।

কয়েক মাস ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর কমতির দিকে

গত বছরের অক্টোবরের পর থেকেই দেশে মূল্যস্ফীতি আবার ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছিল। ২০২৫ সালের অক্টোবরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ। এরপর কয়েক মাস বাড়ার পর চলতি অর্থবছরের শুরুতে আবার কমতে শুরু করে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে ওঠে। মার্চে কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে নামলেও এরপর টানা তিন মাস ৯ শতাংশের ওপরে ছিল। এপ্রিলে ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ, মে মাসে বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং জুনে সামান্য কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ হয়।

জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি এক লাফে দশমিক ৮৪ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে নামে। আগস্টে আরও কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্দোলনের প্রভাবে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে উঠেছিল। ওই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরের কয়েক মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তবে শেষ পর্যন্ত ওই অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ১২ মাসের হিসাবে দেশে গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।

গ্রাম-শহর দুই জায়গাতেই কমেছে

আগস্টে গ্রাম ও শহর—দুই এলাকাতেই সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে। গ্রামীণ এলাকায় এ মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

জুলাইয়ে গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

শহরাঞ্চলে আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ২০ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

জুলাইয়ে শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। ওই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ২১ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ ছিল।

মজুরি বৃদ্ধির হারও কমেছে

মূল্যস্ফীতি কমলেও আগস্টে মজুরি সূচকের বৃদ্ধির হারও কমেছে। এ মাসে জাতীয় গড় মজুরি বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। জুলাইয়ে এ হার ছিল ৮ দশমিক ২২ শতাংশ।

অর্থাৎ আগস্টেও মজুরি বৃদ্ধির হারের চেয়ে মূল্যস্ফীতি বেশি ছিল। সাধারণ মানুষের আয় বা মজুরি যে হারে বাড়ে, তার চেয়ে পণ্য ও সেবার দাম দ্রুত বাড়লে প্রকৃত আয় কমে যায়। এতে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানোর চাপ বাড়ে।

গ্রাম ও শহর মিলিয়ে ১৪৫টি নিম্নদক্ষতার পেশার মজুরি বিবেচনায় নিয়ে মজুরি সূচক হিসাব করে বিবিএস। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৮৬ শতাংশ মানুষ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন। এ খাতে কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা প্রায় ছয় কোটি। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ে।