শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

বঙ্গোপসাগরে কার্গো জাহাজডুবি: দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও নিখোঁজ ২২ নাবিক

বঙ্গোপসাগরে মধ্যসমুদ্রে পানামার পতাকাযুক্ত বাণিজ্যিক জাহাজ 'এমভি ওশেন উইনার' নিমজ্জিত হওয়ার পর দুই নাবিককে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে কার্গো জাহাজডুবি: দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও নিখোঁজ ২২ নাবিক

বঙ্গোপসাগরে মধ্যসমুদ্রে পানামার পতাকাযুক্ত বাণিজ্যিক জাহাজ 'এমভি ওশেন উইনার' নিমজ্জিত হওয়ার পর দুই নাবিককে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

শনিবার গভীর রাতে সমুদ্রে ভাসমান দুটি লাইফ র‌্যাফট থেকে তাঁদের নিরাপদে তুলে নেওয়া হয়। তবে জলযানে থাকা অপর ২২ জন ক্রু সদস্যের সন্ধানে ভারতীয় কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর যৌথ উদ্ধার অভিযান জোরকদমে চলছে।


ওড়িশার পারাদ্বীপ বন্দর থেকে প্রায় ২৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থানকালে শনিবার দুর্ঘটনাটি ঘটে। ২২৫ মিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট এই বিশাল কার্গো জাহাজটিতে সর্বমোট ২৪ জন নাবিক ও ক্রু সদস্য নিয়োজিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২০ জন চীনের নাগরিক, ৩ জন মায়ানমারের এবং ১ জন বাংলাদেশের বাসিন্দা।

সমুদ্রে অনুসন্ধান পরিচালনাকারী দল জানায়, জাহাজটির সঙ্গে জরুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই উদ্ধার তৎপরতা শুরু করা হয়। পরবর্তীতে রাত ৮টার দিকে দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা একটি বাণিজ্যিক জলযানের সহায়তায় ভাসমান অবস্থায় দুই নাবিককে উদ্ধার করা হয়। তবে তাঁদের নাম-পরিচয় বা শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

পণ্যবাহী এই বাল্ক ক্যারিয়ারটি ওড়িশা থেকে লোহা তৈরির আকরিক বোঝাই করে সিঙ্গাপুরের বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল। গত শুক্রবার উপকূল ত্যাগ করার পরদিন শনিবার থেকেই এর ট্র্যাকিং সিগন্যাল এবং রেডিও যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে এটি গভীর সমুদ্রে তলিয়ে গেছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযানের পরিধি আরও বাড়াতে ভারতীয় কোস্ট গার্ডের 'আইসিজিএস ভারাদ', 'আইসিজিএস আনমল' এবং পোর্ট ব্লেয়ারের শ্রী বিজয়পুরম থেকে 'আইসিজিএস বিজিত' নামক বিশেষ টহল জাহাজ বহর নিয়োজিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ওই সমুদ্রপথ দিয়ে চলাচলকারী সমস্ত বাণিজ্যিক ও মাছ ধরার জাহাজকে সতর্ক থাকার এবং তল্লাশিতে সহায়তার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

কারিগরি ত্রুটি নাকি বৈরী আবহাওয়া—ঠিক কী কারণে জাহাজটি দুর্ঘটনার মুখে পড়েছে তা এখনও পরিষ্কার নয়। বন্দর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিখোঁজ সব নাবিকদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেছেন এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম অবিরত রাখা হয়েছে।