সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে ইবোলায় সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা ছয় হাজার ৪১ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই হাজার ৯১১ জন মারা গেছেন, আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক হাজার ৩৬৬ জন। বিগত কয়েক দিনে সংক্রমণ ছড়ানোর গতি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে।
মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটেছে। প্রাপ্ত উপাত্তে দেখা যায়, আগস্টের ২৯ তারিখ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ছিলেন পাঁচ হাজার ৯৪৫ জন এবং প্রাণহানি ঘটেছিল দুই হাজার ৮৬২ জনের। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে নতুন করে আরও বহু মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি বেশ কয়েকজন মারা যান।
চলতি বছরের মে মাসে এই প্রাদুর্ভাব আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার পর থেকে দেশের অন্তত ছয়টি প্রদেশের প্রায় ৬০টি স্বাস্থ্য এলাকায় এটি ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ইতুরি, উত্তর কিভু এবং হাউত-উয়েলে অঞ্চলে সংক্রমণের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, চলমান এই সংকটের জন্য মূলত ইবোলার বুন্ডিবুগিও ধরনটি দায়ী। ভাইরাসটির এই ধরনের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য কার্যকারী কোনো স্বীকৃত প্রতিষেধক বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সন্দেহভাজনদের দ্রুত শনাক্তকরণ, সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষদের নজরদারিতে রাখা এবং সামগ্রিক প্রতিরোধ জোরদার করা হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক সতর্কবার্তায় উল্লেখ করেছে, অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাত, বিশাল জনগোষ্ঠীর বাস্তুচ্যুতি, চরম স্বাস্থ্যকর্মী সংকট এবং দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলে দ্রুত চিকিৎসাসেবা ও সহায়তা পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা মহামারি নিয়ন্ত্রণে অন্যতম বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।