শনিবার রাজধানীর আশকোনা সংলগ্ন হজ ভবনে অনুষ্ঠিত ‘সরকারি ব্যবস্থাপনার হজ গাইড সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান, ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির আসন থেকে তিনি এসব বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
ধর্মমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, হজ ব্যবস্থাপনার সাফল্য স্রেফ প্রাথমিক নিবন্ধন কিংবা সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে প্রথাগত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং হজযাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা, মিনা-আরাফাহ-মুজদালিফার মতো দূরূহ আনুষ্ঠানিকতা সুচারুভাবে সম্পাদন এবং নিরাপদে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার ওপরই সামগ্রিক সফলতার মানদণ্ড নির্ধারিত হয়। বিগত দিনের হজ আয়োজনের মূল কৃতিত্ব পূর্বতন প্রশাসনের—এমন ধারণাকে ভ্রান্ত আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, নিবন্ধন ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি রুটিন প্রক্রিয়ার অংশ; আসল চ্যালেঞ্জ ছিল সামগ্রিক নিরাপত্তা ও সেবার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পষ্ট দিকনির্দেশনায় সুচারুভাবে সকল কার্যাবলী সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, সৌদি আরবের ধর্মীয় মন্ত্রীর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের সার্বিক হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা এসেছে। সরকারের বিশেষ পদক্ষেপে হজযাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে ১ লাখ বোতল পানীয় জল সরবরাহ, বিনামূল্যে লাগেজ প্লাস্টিক মোড়কায়ন এবং নারী পুণ্যার্থীদের জন্য বিশেষ প্রসাধনাগারের বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। এতে করে সরকারি ব্যবস্থাপনায় আসা কোনো পুণ্যার্থীর মালামাল নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেনি।
হজযাত্রীদের সার্বিক সুরক্ষায় পুলিশ, বিমান, ইমিগ্রেশন, স্কাউট ও সামাজিক সংগঠনগুলোর টানা ২৪ ঘণ্টার সেবাপ্রদানের ভূয়সী প্রশংসা করে নিজেকে জনগণের একজন সেবক হিসেবে অভিহিত করেন মন্ত্রী। ফ্লাইটের শেষ লগ্নে ভিসা থাকা সত্ত্বেও অর্থসংকটে আটকে পড়া দুই পুণ্যার্থীর ব্যক্তিগত দায়িত্ব নিয়ে হজে পাঠানোর একটি বাস্তব দৃষ্টান্ত তুলে ধরে তিনি সমন্বিত কাজের গুরুত্ব জোর দিয়ে প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে উৎকৃষ্ট সেবাপ্রদানকারীদের স্বীকৃতি আরও বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
উক্ত আলোচনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার হজ গাইডদের অক্লান্ত পরিশ্রমের স্বীকৃতি প্রদান করেন এবং আগামী দিনে আরও সুশৃঙ্খল আয়োজনের জন্য সার্বিক অংশীদারদের পরামর্শ চান। অন্যদিকে সভাপতির বক্তব্যে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা এবং অসুস্থ ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অনুসরণের আহ্বান জানান। একই সাথে বিগত সময়ের উদ্বৃত্ত অর্থ পুণ্যার্থীদের কাছে অর্থ ফেরত প্রদানের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য পেশ করেন অতিরিক্ত সচিব (হজ) ড. মো. আয়াতুল ইসলাম। এ ছাড়া ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনসহ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, হাব, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ওয়াকফ প্রশাসনের শীর্ষ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিশেষে ২০২৬ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রভূত সেবা প্রদানকারী ১৮ জন দক্ষ হজ গাইডের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।