জাতীয়
দুর্গম ও চরাঞ্চলে দায়িত্ব পালনে শিক্ষকদের উৎসাহিত করতে বিশেষ ভাতা প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত: ববি হাজ্জাজ
দেশের চরাঞ্চল ও দুর্গম ভূখণ্ডের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকগণের নিয়মিত উপস্থিতি এবং পাঠদানে অনুপ্রেরণা বাড়াতে যাতায়াতের মাধ্যম ও দূরত্বের ওপর নির্ভর করে বিশেষ ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
দেশের চরাঞ্চল ও দুর্গম ভূখণ্ডের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকগণের নিয়মিত উপস্থিতি এবং পাঠদানে অনুপ্রেরণা বাড়াতে যাতায়াতের মাধ্যম ও দূরত্বের ওপর নির্ভর করে বিশেষ ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এই বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগের সুনির্দিষ্ট মাধ্যম এবং দুর্গমতার সার্বিক পর্যায় বিশ্লেষণ করে ভাতার এই কাঠামোটি নতুনভাবে প্রস্তুত করা হবে। বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলগুলোকে প্রধান অগ্রাধিকার দিয়ে প্রস্তুত করা এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতের পাশাপাশি আঞ্চলিক বৈষম্য কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রংপুরের পিটিআই মিলনায়তনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয় আয়োজিত প্রশাসনিক সংস্কার, স্বচ্ছতা ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত একটি দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচীতে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক জটিলতা এড়িয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের নির্দেশ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রাতিষ্ঠানিক পদের পাশাপাশি সকল স্তরে কার্যকর জবাবদিহিতা স্থাপন করা আবশ্যক। শিক্ষা প্রশাসনের মূল কাজ যেহেতু শ্রেণিকক্ষ কেন্দ্রিক, তাই সরকারি যেকোনো সিদ্ধান্তের সুফল যেন সরাসরি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শেখার পরিবেশে প্রতিফলিত হয় সেদিকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের আধুনিক পাঠদানের সুবিধার্থে তিনি জানান, আগামী বছর থেকে প্রাথমিক স্তরে পরীক্ষামূলকভাবে বৈজ্ঞানিক খেলনা বা 'সায়েন্স টয়' ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে, যা শিশুদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে। এছাড়া শারীরিক ও মানসিক বিকাশের অংশ হিসেবে বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে বাধ্যতামূলক আটটি ক্রীড়া বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
বিদ্যালয়গুলোতে অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, আসল শিক্ষকের পরিবর্তে বিকল্প বা 'প্রক্সি' শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চালানোর যে চর্চা রয়েছে, তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ক্লাসে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কোনো প্রকার শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না।
প্রকৃত দুর্গম এলাকা চিহ্নিতকরণের বিষয়ে তিনি জানান, স্থানীয় প্রশাসনের সরেজমিন মূল্যায়নের ভিত্তিতে তালিকা প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং তার আলোকেই চূড়ান্ত সুবিধা বরাদ্দ করা হবে। বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে বিশ্বমানে উন্নীত করার লক্ষ্যে নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে কাজ করছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের সঞ্চালনায় উক্ত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, পরিচালক মোহাম্মদ কামরুল হাসান এবং মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ইসরাত জাহান। এছাড়া রংপুর বিভাগের আট জেলার শিক্ষা কর্মকর্তা, পরিদর্শক এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত ছিলেন।