বুধবার প্রণালি অতিক্রমের সময় আকস্মিকভাবে অন্তত চারটি মানববিহীন আকাশযান ও একটি ব্যালিস্টিক রকেট আঘাত হানে ওই জাহাজে। এর পরপরই পুরো নৌযানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে সৈন্যদের আঘাত আশঙ্কাজনক নয় বলে জানা গেছে; মূলত ঘন ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টের কারণেই অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তাদের উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পেন্টাগনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, নিশানা হওয়া জলযানটি মার্কিন নৌবাহিনীর নিজস্ব কোনো রণতরী ছিল না, বরং সামরিক কাজের উদ্দেশ্যে চুক্তিবদ্ধ একটি বেসামরিক নৌপরিবহন ছিল। অবশ্য কৌশলগত গোপনীয়তা ও সুরক্ষার খাতিরে জাহাজে অবস্থানরত মোট সৈন্যের সংখ্যা, হতাহতের প্রকৃত পরিসংখ্যান কিংবা সেটির যাত্রাপথ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। মার্কিন সামরিক সদর দপ্তর সেন্টকম কিংবা উভয় দেশের নীতিনির্ধারকদের কেউই এ ঘটনা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেননি।
বিশ্বের প্রায় বিশ শতাংশ জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রধান সংযোগস্থল ওমান ও পারস্য উপসাগরের মধ্যবর্তী এই নৌপথে সাম্প্রতিক সময়ে বৈরিতা চরমে পৌঁছেছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে অঞ্চলটিতে দুই দেশের মধ্যকার সামরিক দ্বন্দ্বের জেরে জলযানগুলোর ওপর তেহরান অতিরিক্ত মাশুল আরোপ করতে চাইলে তা প্রত্যাখান করে ওয়াশিংটন, যার প্রতিক্রিয়ায় ইরানি বন্দরে নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টাপাল্টি এসব পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় কৌশলগত এ পানিপথে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা ও সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র : ফক্স নিউজ