শনিবার, 24 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

গাজা শান্তি পরিকল্পনায় ইসরায়েলি অনীহা: ইসরাইলের নিন্দায় ৮মুসলিম দেশ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থাপিত গাজা শান্তি পরিকল্পনা গ্রহণে ইসরায়েলের অস্বীকৃতির কঠোর প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিশ্বের আটটি মুসলিম দেশ।

গাজা শান্তি পরিকল্পনায় ইসরায়েলি অনীহা: ইসরাইলের নিন্দায় ৮মুসলিম দেশ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থাপিত গাজা শান্তি পরিকল্পনা গ্রহণে ইসরায়েলের অস্বীকৃতির কঠোর প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিশ্বের আটটি মুসলিম দেশ।

গত রোববার প্রকাশিত এক যৌথ বার্তায় সৌদি আরব, মিশর, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান এবং ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন যে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের এই ধরনের সিদ্ধান্ত চলমান মধ্যস্থতা প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে এবং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের স্থায়ী স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর আশঙ্কার সৃষ্টি করছে।

কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে যৌথ বার্তায় উল্লেখ করা হয়, প্রস্তাবিত শান্তি রূপরেখায় তেল আবিবের এই না সূচক অবস্থান সরাসরি শান্তি উদ্যোগকে প্রতিহত করার শামিল। এই ভূমিকার ফলে প্রস্তাবিত পরিকল্পনার বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদী ন্যায়সঙ্গত শান্তি প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সদ্বিচ্ছাকে গোড়াতেই দুর্বল করে দিচ্ছে।

মুসলিম বিশ্ব থেকে আরও বলা হয়, এই ধরনের অসম্মতির মাধ্যমে এটি অত্যন্ত পরিষ্কার হয়ে গেছে যে গাজাসহ পুরো অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে শান্তির পরিবেশ বজায় রাখার পদক্ষেপে প্রধান প্রতিবন্ধক হিসেবে বর্তমানে ইসরায়েলই এককভাবে দায়ী।

সম্প্রতি গাজা পরিস্থিতির অবসানে মার্কিন প্রশাসনের গঠিত বিশেষ পিস বোর্ডের প্রস্তুত করা ১৫ দফা রূপরেখা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে তেল আবিব। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস সম্পূর্ণরূপে তাদের সরঞ্জাম ও শক্তি সমর্পণ না করা পর্যন্ত গাজা ভূখণ্ড থেকে কোনো সৈন্য প্রত্যাহার করা হবে না বলে কড়া বার্তা দেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

উল্লেখ্য, মিশর, কাতার, তুরস্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ এবং দীর্ঘমেয়াদী মধ্যস্থতার পর গঠিত এই শান্তি ছকে বিগত বছরেই যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দুই পক্ষ নীতিগত সম্মতি জানিয়েছিল।

আট দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা তাদের সম্মিলিত বাণীতে যোগ করেন, এই রূপরেখা এড়িয়ে যাওয়ার অর্থ হলো শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রসর হতে ইসরায়েলের স্পষ্ট অনিচ্ছা প্রকাশ করা। সেই সঙ্গে গাজায় সংঘাতের সমাপ্তি টানা এবং স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে লাইনচ্যুত করার সরাসরি হুমকির নামান্তর।

বার্তায় কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা জোর দিয়ে জানান, শান্তি পরিকল্পনার ধারা ও পূর্বশর্ত মেনে চলতে ইসরায়েল যেন বাধ্য থাকে এবং নতুন করে কোনো জটিলতার সৃষ্টি করতে না পারে, সে ব্যাপারে ওয়াশিংটনকে আরও কার্যকরী ও দৃশ্যমান ভূমিকা পালন করতে হবে।

যৌথ বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়, বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রস্তাবিত শান্তি রূপরেখা বারবার প্রত্যাখ্যান, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি কিংবা তা বাস্তবায়নে কালক্ষেপণের ফলে সৃষ্ট যেকোনো ক্ষতিকর পরিস্থিতি, গাজার পরিস্থিতির অবক্ষয় এবং যুদ্ধ থামাতে না পারার যাবতীয় দায়ভার এককভাবে ইসরায়েলকেই বহন করতে হবে।